Brand Practitioners Bangladesh গ্রুপে Nusrat Jahan আপু পোস্ট দিয়ে জানতে চেয়েছিলেন কিভাবে বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর বাইরে গিয়ে প্লাটফর্ম, প্রসেস, সিস্টেম ইত্যাদি সম্পর্কে ইন-ডেপথে শেখা যেতে পারে। 

পোস্টটাতে আমাকে বেশ কয়েকজন ট্যাগ করেছেন…তাই এই লেখাটা লিখছি প্রধাণত সিরিয়াস প্রফেশনালদের জন্য। 

বাংলাদেশে ডিজিটাল মার্কেটিং এখনো অনেকটা Iceberg এর মতো – আমরা পানির উপরে থাকা মাত্র 5% কাজে লাগাচ্ছি, কিন্তু পানির নিচে এর কি বিশালত্ব সেটা অনুধাবনই করতে পারছি না। 

ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে গেলে প্রথমেই টুলস এর কথা চলে আসে – Facebook Ads Manager, Google Ads, SEO ইত্যাদি। এগুলো নিয়েই আমাদের চারপাশে এত শোরগোল। 

কিন্তু এগুলো তো ডিজিটাল মার্কেটিং এর জাস্ট “Digital” পার্ট, “Marketing” পার্টটা কোথায় জানি হারিয়ে যাচ্ছে!

ডিজিটাল মার্কেটিং তো আসলে ডিজিটাল চ্যানেল ব্যবহার করে মার্কেটিং। আজকে “ডিজিটাল” মার্কেটিং ট্রেন্ড, কয়েক বছরের মধ্যেই “ডিজিটাল” এর জায়গা দখল করে নেবে “Metaverse” Marketing, তারপর “Web3” Marketing।

এগুলোকে একসাথে বোঝানোর জন্য আমি ইদানিং একটা টার্ম ব্যবহার করা শুরু করেছি, সেটা হচ্ছে – “Virtual Marketing (ভার্চুয়াল মার্কেটিং)” .

Virtual Marketing = Digital Marketing + Metaverse Marketing + Web3 Marketing

(Virtual Marketing নিয়ে সামনে ডিটেইলস লিখবো)

তো মার্কেটিংটাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব না দিয়ে আমরা যদি শুধু “ডিজিটাল” prefix নিয়েই পড়ে থাকি, তাহলে তো কিছুদিনের মধ্যেই obsolete হয়ে যেতে হবে, তাই না? 

সো, আমাদেরকে ভাল করে “মার্কেটিং” শিখতে হবে।

আমাদেরকে মার্কেট রিসার্চ শিখতে হবে, Consumer Behavior, IMC এগুলো একটু শিখে নিতে হবে। এই শেখাটার জন্য যদি ফরমাল এডুকেশন নিতে পারেন তাহলে তো অসাধারণ। সেটা সম্ভব না হলেও ইন্টারনেট নামক “Library of Alexandria” আছে। ইন্টারনেট দিয়ে শুধুমাত্র ফেইসবুক, ইন্সটাগ্রাম, টিকটক না চালিয়ে আরো অনেক কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব।

Easy to implement hacks to improve traffic,

conversion and revenue online!

GET YOUR

FREE COPY NOW!

পরবর্তী পয়েন্ট – ইন্টারনেট কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর বিখ্যাত কিছু বই এর নাম জানলাম, লোকাল-গ্লোবাল বিভিন্ন এডুটেক কোম্পানির কোর্সে এনরোল করলাম, কিন্তু সবাই তো শুধু একই বেসিক নিয়েই কথা বলছে। সব জায়গাতেই শুধু Digital Marketing Fundamentals, Facebook Ad, Google Ads, SEO এইসবই। 

তো এক্সপার্ট হবার জন্য এডভান্সড স্কিল ডেভেলপ করার রিসোর্স কোথায় পাব?

এই জায়গাটা খুব ক্রিটিকাল একটা জায়গা। আমি যেহেতু বেশ কয়েকবছর ধরে সরাসরি ইলার্নিং এর সাথে জড়িত আছি, আমার এক্সপেরিয়েন্স থেকে কিছু insight আপনার সাথে শেয়ার করি। এটা আমাদেরকে বুঝতে সাহায্য করবে আসলে গ্যাপটা কোথায় হচ্ছে।

ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার হিসেবে আমরা সবাই জানি যে মার্কেটে কি পরিমাণ Supply তৈরি হবে সেটা নির্ভর করে Demand এর উপর।

আমাদের দেশে ডিজিটাল মার্কেটিং কোর্স বা রিসোর্স এর চাহিদা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি student, freelancers, এফকমার্স উদ্যোক্তাদের মাঝে। এবং এই সিংহভাগ গ্রুপেরই ডিমান্ড হচ্ছে 500 – 1500 টাকার মধ্যে, মোটামুটি বেসিক থেকে মিডিয়াম লেভেলের প্রি-রেকর্ডেড অনলাইন কোর্স, অথবা ম্যাক্সিমাম 3000 – 5000 টাকার মধ্যে ফিজিক্যাল ট্রেইনিং যেখানে টুলস হাতে কলমে শেখানো হবে। 

যারা এডুটেক বিজনেসের সাথে জড়িতে, তারা দেখতে পাচ্ছে TG এর চাহিদা উপরের জিনিসগুলো। সুতরাং তারাও সেভাবেই কোর্স আনছে, ট্রেইনিং আনছে। 

আনফরচুনেটলি, আমাদের দেশে একটু যারা এক্সপেরিয়েন্সড, মিড-লেভেলে, তাদের বেশিরভাগের মধ্যেই লার্নিং এর পিছনে ইফোর্ট-সময় দেবার প্রতি একধরণের ব্যারিয়ার কাজ করে। (কেন এই ব্যারিয়ার, কিভাবে সেটা দূর করা যায় সেটা নিয়ে একটা আলাদা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে, তবে আপাতত আজকের টপিকে ফোকাস থাকি)।

তো যেহেতু আমাদের দেশে এডভান্সড ডিজিটাল মার্কেটিং টপিকের মার্কেট নাই, সুতরাং এটা নিয়ে রিসোর্স তৈরি করারও আগ্রহ আমাদের কম, এটাই স্বাভাবিক।

একটা প্র্যাক্টিকাল উদাহরণ দেই – কিছুদিন আগে আমি বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ‘Digital Marketing Strategy” এর উপর একটা এডভান্সড লাইভ ট্রেইনিং প্রোগ্রাম রান করি। ছয় সপ্তাহের এই এক্সটেনসিভ ট্রেইনিং এবং মেন্টরশীপ প্রোগ্রামটার অন্যতম শর্ত ছিল মিনিমাম তিন বছরের এক্সপেরিয়েন্সড না হলে এপ্লাই করা যাবে না। এবং আমি অনেক যাচাই বাছাই করে শখানেক এপ্লিকেশন থেকে বাছাই করে 25 জনকে এই ট্রেইনিং এ পার্টিসিপেট করার সুযোগ দিয়েছিলাম। 

ডিজিটাল মার্কেটিং “Strategy” এর উপর ট্রেইনিং না করিয়ে যদি বেসিক ডিজিটাল মার্কেটিং এর উপর প্রি-রেকর্ডেড কোর্স করাতাম, তাহলে সেখানে আরো বেশি এওয়ারনেস তৈরি হতো, বেশি এনগেজমেন্ট হতো, আরো অনেকেই জানতো। 

ট্রেইনিং বা কোর্স করানোটা আমার প্যাশন, প্রফেশন না। পেশায় আমি একজন software engineer turned business strategist. জবের পাশাপাশি অবসর সময়ে আমার প্রধান ফোকাস স্ট্র্যাটেজি কনসাল্টিং। ট্রেইনিং, কোর্স, মেন্টরশীপ, ব্লগ, সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখালেখি এগুলো কমিউনিটিতে কনট্রিবিউট করার কমিটমেন্ট থেকে করা। তাই আমি খুব নিশ একটা সেগমেন্ট নিয়ে মনের আনন্দে ট্রেইনিং করিয়েছি। 

এই কাজটা তো একটা এডুটেক প্লাটফর্ম এর জন্য financially viable না। তাই আমরা লোকাল-গ্লোবাল নামকরা এডুটেকে গেলে বেসিক থেকে মিডিয়াম কোর্সই দেখতে পাই।

নেক্সট প্রশ্ন, তাহলে কি দুনিয়াতে এডভান্সড শেখার রিসোর্স নেই?

উত্তর – আলবৎ আছে। 

আমাদেরকে এজন্য সারফেস স্ক্রাচ করা বাদ দিয়ে গভীরে ডুব দিতে হবে। কমন প্লাটফর্মগুলো এর বাইরে গিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হবে। ইন্টারনেটের হাইওয়ে ছেড়ে বের হয়ে কানাগলি গুলোতে ঢু মারতে হবে। Generlist দের কাছে শেখার চিন্তা বাদ দিয়ে Specialist দের কাছে যেতে হবে। 

Nusrat আপু জানতে চেয়েছিলেন কিভাবে শিখবেন, কোথা থেকে শিখবেন?

আমি বলবো, আমাদেরকে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে শিখতে হবে। ইন্ডাস্ট্রিতে যারা এক্সপার্ট তাদের কাছ থেকে শিখতে হবে। যেই টপিকে যে বিশ্বের সেরা তার কাছ থেকে শিখতে হবে। 

Learn a LITTLE about LOT of things. 

Learn a LOT about FEW things.

আপনাকে ডেভেলপ করতে হবে T Shaped Skill।

অর্থাৎ Broad এরিয়ার যত বেশি সম্ভব টপিক সম্পর্কে inch-deep knowledge রাখতে হবে। আর খুব স্পেসিফিক একটা-দুইটা এরিয়া বেছে নিয়ে সেখানে mile-deep expertise তৈরি করতে হবে।

Social Media Marketing, Digital Advertising, Email Marketing শিখতে চান? ডিজিটাল মার্কেটিং শেখার জন্য বিশ্বের অন্যতম নামকরা প্লাটফর্ম DigitalMarketer এর ফাউন্ডার Ryan Deiss এর কাছ থেকে শিখুন। আপনার দৃষ্টিভঙ্গিটাকেই তিনি বদলে দেবেন।

The Ultimate Guide to 

MARKETING FUNNEL!

Guide to Marketing Funnel

Learn the different stages of the most POWRFUL funnel and implement them!

Get Your

FREE Copy now!

SEO শিখতে চান? Neil Patel ট্রাই করুন।

Google Ad – Google Digital Garage তো আছেই, সাথে Udemy এর কিছু ভাল কোর্স আছে। 

Facebook Ad – John Loomer, Adespresso blog, Facebook / Meta Blueprint

LinkedIn এর জন্য আমি Justin Welsh এর LinkedIn Operating System কোর্সটা করে বেশ স্যাটিসফাইড।

YouTube এর জন্য Ali Abdaal, পডকাস্টের জন্য Pat Flynn কে ফলো করতে পারেন। 

সেই সাথে টিমে যদি এক্সপার্ট কেউ থেকে থাকে (সিনিয়র কলিগ হোক বা জুনিয়ার), তার কাছ থেকে তো অবশ্যই শিখতে হবে।

তবে সব সময় যে সব রিসোর্স ভাল লাগবে এমনটাও না। 

Frank Kern এর অনেকগুলো কোর্সে আমি এনরোল করেছিলাম (কয়েক হাজার ডলার ভ্যালুর কোর্স)। Frank বিশ্বের অন্যতম নামকরা Internet Marketer, একটা ইনফো প্রডাক্ট লঞ্চ করে 24 ঘন্টার কম সময়ে $24 million dollar সেল করে ইনফো বিজনেসের দুনিয়াকে কাপিয়ে দিয়েছিলেন। আনফরচুনেটলি আমার কাছে তার কোর্সগুলো ভাল লাগে নি, রিফান্ড চেয়ে নিয়েছিলাম (Sorry, Frank)! 

আর হ্যা, ঐ যে, শুরুতে বলেছিলাম, শুধু “ডিজিটাল” টুলস শিখলে তো চলবে না।

একজন ভাল মার্কেটারকে অবশ্যই কপিরাইটিং এর উপর দক্ষতা থাকতে হবে। Copywriting শেখার জন্য প্রথমে যেতে হবে Father of Advertising নামে পরিচিত David Ogilvy এর কাছে। “Ogilvy On Advertising” এজন্য প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে, এরপর Eugene Schwartz, Claude C. Hopkins এনাদের লেখা বইগুলোও পড়ুন। 

শিখতে হবে Sales Funnel এবং Marketing Funnel. পৃথিবীতে এই মূহুর্তে Sales Funnel এর উপর একচ্ছত্র আধিপত্য হচ্ছে Clickfunnel এর প্রতিষ্ঠাতা Russel Brunson এর. আপনি তার লেখা ‘Dotcom Secrets’ বইটা দিয়ে শুরু করুন। পর্যায়ক্রমে তার অন্যান্য ফ্রি এবং পেইড রিসোর্স গুলো থেকে শেখার চেষ্টা করুন (যদি শখানেক থেকে কয়েক হাজার ডলার ইনভেস্ট করতে পারেন লার্নিং এর পিছনে)।

যে কোন মার্কেটিং এ Launching খুবই গুরুত্বপূর্ণ। Jeff Walker এজন্য সেরা। “I Will Teach You To Be Rich” এর Ramit Sethi এর কাছ থেকেও আমি লঞ্চিং নিয়ে খুব exceptional কিছু শিখেছি।

মার্কেটিং এর জন্য শুধু ad তৈরি করলেই হবে না, communication টাও simplify করতে হবে। এজন্য Donald Miller এর কাছ থেকে Story Brand ফ্রেমওয়ার্ক ব্যবহার করা শিখতে পারেন।

নামগুলো অপরিচিত হলে জাস্ট Google করুন। এরকম আরো কার কার কাছ থেকে শেখা যায় সেটাও খুজে বের করুন।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপারটা হচ্ছে, আপনি যখন এদের একজনের কাছ থেকে শেখা শুরু করবেন, তখন একটা Snowball ইফেক্ট শুরু হবে। অর্থাৎ আপনি নিজেই সেগুলোর মাঝে আরো রিসোর্স এর রেফারেন্স খুজে পাবেন, এর পর কি শিখতে হবে নিজেই বুঝে যাবেন।

যেমন আমি Russel Brunson এর কাছ থেকে জানতে পেরেছি বিশ্বসেরা Direct Response Marketer “Dan Kennedy” এর কথা। এরপর Dan Kennedy এর পেইড নিউজলেটার B.S Magnetic Marketing এ সাবস্কাইব করি জাস্ট গত মাসে, সেই সাথে তার কোর্সগুলোও করা শুরু করি। I have learned so much new things that I didn’t know exist!

প্রশ্ন জাগতে পারে, Google বা YouTube তো উপরের প্রায় সবগুলোই ফ্রিতে পাওয়া যায়, তাহলে কেন হাজার ডলার খরচ করে কোর্স বা ট্রেইনিং করছি?

এর তিনটা কারণ আমি বলতে পারিঃ

আমি নিজে প্রচুর বই পড়ি, অনেক কোর্স করি – এসব করতে গিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ন একটা জিনিস বুঝতে পেরেছি। সেটা হচ্ছে –

সবচেয়ে কমন, সবচেয়ে নামকরা, সবাই চেনে এমন সোর্সগুলো তে সবসময় সবচেয়ে এডভান্সড লার্নিংটা পাবেন না।

ডায়মন্ড পেতে হলে খনির গভীরে যেতে হবে। 

আমাদেরকে আনকমন সোর্স, স্বল্প পরিচিত niche রিসোর্স গুলো খুজে খুজে বের করতে হবে।

আপনি যদি শুধুমাত্র বেস্ট সেলিং বই পড়েন, তাহলে আপনি অনেক কিছু মিস করছেন। আমজনতার জন্য লেখা বইগুলো হয় বেস্ট সেলিং, মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষ সেগুলো কেনে। 

কিন্তু আমাদেরকে শিখতে হবে Niche টপিক। প্রতিটা নিশের বেস্ট বই খুজে বের করতে হবে। প্রতিটা নিশের বেস্ট কোর্স খুজে বের করতে হবে। প্রতিটা নিশের বেস্ট resource person খুজে বের করতে হবে।

তারপর এই সব লার্নিংগুলোকে এক সুতোর মালায় গাথতে হবে।

একটা দুইটা ‘দামে কম মানে ভাল কাকলী ফার্নিচার’ টাইপ কোর্স করে, তিন-চার মাসে সবকিছু শিখে ফেলবো এই চিন্তাটাই বেশিরভাগ সময় আমাদেরকে পিছনে ফেলে রাখে।

আমাদের মেন্টালিটি থাকতে হবে lifelong continuous learning এর, আমাদেরকে শিখতে হবে প্রতিটা নিশ এরিয়ার এক্সপার্ট এর কাছ থেকে। প্রতিমাসে নিজের লার্নিং এর জন্য ইনভেস্টমেন্ট করার বাজেট থাকতে হবে। এই বাজেটটা যেন আমাদের নেটফ্লিক্স সাবক্রিপশন, মোবাইল বিল, রেস্টুরেন্টে আড্ডা মারার বাজেটের চেয়ে মোটেই কম না হয়।

এবং শেখার সময়, কার কাছ থেকে শিখছি সেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যার কাছ থেকে শিখছি তার নলেজ, এক্সপেরিয়েন্স, স্টাডি, রিসার্চ, ক্যারিয়ার ট্র্যাক, রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল এসব যদি আমাকে স্যাটিসফাই করে তবেই আমি তার কাছ থেকে শিখবো। 

এই লেখাটা একজন ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার এর প্রফেশনাল ক্যারিয়ারে কিছু ভ্যালু এড করবে এই প্রত্যাশা থাকলো। 

আপনার ভ্যালুয়েবল এক্সপেরিয়েন্স, আপনার নলেজ, আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানান…আলোচনাটা চলুক।

মাত্র কিছুদিন আগেই ওটিটি প্লাটফর্ম চরকিতে মুক্তি পাওয়া মার্ডার মিস্ট্রি থ্রিলার ‘Redrum’ অসাধারণ সাড়া ফেলেছে দর্শকদের মাঝে।

আফরান নিশো – মেহজাবীন চৌধুরী অভিনীত দুর্দান্ত এই থ্রিলার ওয়েবফিল্মের স্পন্সর হিসেবে ছিল বিউটি ইকমার্স স্টার্টআপ ‘সাজগোজ’। 

রেডরাম নিয়ে অলরেডি সোশ্যাল মিডিয়াতে, বিভিন্ন মুভি রিভিউ গ্রুপে প্রচুর আলোচনা হয়েছে এবং এখনও চলছে। তবে আমার এই লেখার উদ্ধেশ্যে মোটেও মুভি রিভিউ নয়, বরং ব্র্যান্ড প্যাক্টিশনার্স এবং স্টার্টআপ ফাউন্ডারদের দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা চরকি এবং সাজগোজ এর এই  পার্টনারশীপটাকে এনালাইসিস করতে চাই!

এই মিনি কেইস স্টাডিতে আমি Redrum কে উদাহরণ হিসেবে ধরে চরকি এবং সাজগোজ এর Content Driven Strategy নিয়ে আলোচনা করবো। 

সাজগোজ – বাংলাদেশের #1 বিউটি ইকমার্স

বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর মধ্যে এখন পর্যন্ত অন্যতম সফল ‘সাজগোজ’ এর জার্নিটা খুবই ইন্টারেস্টিং এবং এখান থেকে ফাউন্ডারদের অনেক কিছু শেখার আছে। 

গত বছর 2021 এর শেষের দিকে সাজগোজ Sequoia Capital India এর Serge এর নেতৃত্বে এবং সোনিয়া বশির কবির আপুর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম SBK Venture এর অংশগ্রহণে $2 million সিড ফান্ড রেইজ করেছে। 

2013 সালে সাজগোজের যাত্রা শুরু হয়েছিল সিনথিয়া ইসলাম, নাজমুল শেখ ও মিলকি মাহমুদের হাত ধরে বাংলা ভাষায় বিউটি কেয়ারের কন্টেন্ট তৈরি করা দিয়ে। সাজগোজ ডট কম এখন বাংলা ভাষায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ও সেলফ কেয়ারের ওয়েবসাইট। 

2018 সালের শেষের দিকে যখন বাংলাদেশের ইকমার্স বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে তখন সাজগোজ ই-কমার্স এর যাত্রা শুরু করে।

অর্থাৎ ইকমার্স রেভিনিউ মডেল হলেও সাজগোজের DNA তে Content ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সাজগোজকে তাই আমরা বলতে পারি – A Content Company Before an Ecommerce! 

আলোচনার শুরুতে এই জিনিসটা বোঝাটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

চরকি: ফিল্ম, ফান, ফুর্তি

প্রায় তিনবছর ধরে এক্সটেনসিভ মার্কেট রিসার্চ, হিউজ প্ল্যানিং করার পর ‘বাংলা কনটেন্টের রাজধানী’ হবার স্বপ্ন নিয়ে এবং দেশি প্ল্যাটফর্মে বিশ্বমানের বিনোদনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল প্রথম আলো ডিজিটাল এর ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফরম – চরকি।

যাত্রা শুরুর পর থেকেই একের পর এক নিজস্ব কন্টেন্ট তৈরি করার মাধ্যমে চরকি অলরেডি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান পোক্ত করে নিচ্ছে। প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান এর ভাষায়, “198 দেশ থেকে মানুষ চরকিতে সিনেমা দেখছেন, চরকি হবে বিশ্বের বৃহত্তম বাংলা ওটিটি প্লাটফরম”।

এর আগে আমি “চরকি : বাংলাদেশী OTT ইন্ডাস্ট্রিতে সম্ভাবনার নতুন আলো!” নামক Business Strategy Case Study তে  ‘চরকি’ কে কেইস স্টাডি ধরে ভিডিও স্ট্রিমিং ইন্ডাস্ট্রির এনাটমি করেছি এবং চরকির বিজনেস স্ট্র্যাটেজি ইন-ডেপথ এনালাইসি করার চেষ্টা করেছি, না পড়ে থাকলে পড়তে পারেন।

চরকির নতুন অরিজিনাল ওয়েবফিল্ম রেডরামে স্টার্টআপ হিসেবে সাজগোজের স্পনসরশীপ একটা অনন্য ঘটনা। 

দুইটা ভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে (Ecommerce এবং OTT) কাজ করলেও এই দুইটি কোম্পানিরই প্রধান শক্তি হচ্ছে Content. 

এই মেলবন্ধন সেজন্য শুধুমাত্র নতুন একটা যুগের সুচনা তাই না, বরং স্টার্টআপ সহ অন্যান্য কোম্পানিদের জন্যও পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে। 

‘রেডরাম’ স্পনসরশীপ – সাজগোজ এর একটা সাকসেসফুল এবং ইফেক্টিভ মার্কেটিং এক্টিভিটি

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ইকমার্স এবং ওটিটি প্লাটফর্মের অডিয়েন্স মোটামুটি একই। 

এই ডিজিটাল যুগে যে কোন কোম্পানিই তাদের এডভার্টাইজিং এর জন্য সোশ্যাল মিডিয়াতে ভিডিও এড, ইউটিউবের জন্য শর্ট ভিডিও কন্টেন্ট ইত্যাদি করতেই পারে। কিন্তু এগুলোর মধ্যে এখন আর নতুনত্ব প্রায় নেই বললেই চলে, এমনকি ভিউয়াররাও উপযুক্ত না হলে প্রায়ই স্কিপ করে যায়।

অন্যদিকে একজন কাস্টোমার বা পটেনশিয়েল কাস্টোমার যখন দেখবে একটা হিট ওয়েবফিল্ম তার পছন্দের কোন একটা কোম্পানির স্পনসরশীপে হয়েছে, তখন তার মধ্যে সেই কোম্পানির প্রতি একটা পজিটিভ ইম্প্রেশন বা ব্র্যান্ড পজিশনিং তৈরি হবে।

রেডরাম এ স্পনশরশীপ করে ঠিক এই জায়গাটাতেই বাজিমাত করেছে সাজগোজ!

Redrum রিলিজ হওয়ার আগে থেকেই ‘সাজগোজ’ তাদের বিভিন্ন প্লাটফর্মে সেটাকে জোরেসোরে প্রচার করা শুরু করে। 

যমুনা ফিউচার পার্কের ব্লকবাস্টার সিনেমাস এ ‘রেডরাম’ এর প্রিমিয়ার শো অনুষ্ঠিত হয়েছিল। স্পন্সর হিসেবে পাওয়া বেনিফিটের অংশ হিসেবে সাজগোজ তার বাছাইকৃত প্রিমিয়াম কাস্টোমারদেরকে ইনভাইট করেছিল নিশো – মেহজাবীন এর সাথে একই অডিটরিয়ামে দর্শক সারিতে বসে সেই প্রিমিয়ার শো দেখতে। 

আপনার পছন্দের একটা কোম্পানি, যার কাছ থেকে আপনি প্রচুর কেনাকাটা করেন, যদি আপনাকে  তারকাবহুল কোন একটা মুভির প্রিমিয়ার শোতে প্রায়োরিটি দিয়ে ইনভাইট করে নিয়ে যায় তাহলে আপনি ঠিক কতটা উচ্ছসিত হবেন ভেবে দেখুন তো?

প্রিমিয়াম কাস্টোমারদের পাশাপাশি সাজগোজ একটা স্পেশাল কম্পিটিশনও এরেঞ্জ করেছিল সোশ্যাল মিডিয়াতে। এই কম্পিটিশন এ জয়ীরাও আবার সুযোগ পেয়েছিল এই প্রিমিয়ার শোতে অংশগ্রহন করার জন্য। 

এই ক্যাম্পেইন এর মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়াতে সাজগোজ হিউজ এনগেজমেন্ট তৈরি করেছে, সাথে Customer Delight তো আছেই।

আবার একই সাথে নিশো – মেহজাবীন এর মতো তারকারা এই ক্যাম্পেইনগুলোকে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল থেকে প্রমোট করেছে, যা সাজগোজের জন্য চমৎকার Influencer Marketing হিসেবে কাজ করেছে। 

মজার ব্যাপার হলো, রেডরামে ‘সাজগোজ’ স্পনসর করেছিল শুটিং শেষ হয়ে যাবার পর এবং রিলিজ এর আগে, অনেকটা হঠাৎ করেই।

ভাল করে লক্ষ্য করে দেখুন, একারণেই আমরা মুভির ভিতরে সাজগোজ এর কোন Brand Endorsement বা Product Placement দেখি নি। 

যদি শুটিং এর আগে চরকির সাথে ডিলটা হতো তাহলে মুভির ভিতরে সাজগোজকে এনডোর্স করার অনেক সুযোগ ছিল। 

উদাহরণস্বরুপ – নীলা (মেহজাবীন) তার ভার্সিটির ফাংশনের জন্য আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে সাজগোজের কোন কসমেটিক্স প্রোডাক্ট ব্যবহার করতে পারতো, নীলা প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় সাজগোজ ইকমার্স এপ থেকে ঘরে বসেই প্রডাক্ট অর্ডার করে ডেলিভারি পেতে পারতো, সাজগোজের কোন একটা রিটেইল শপের মধ্যে রাশেদ (নিশো) এবং তার গার্লফ্রেণ্ডের কোন একটা সিন শুট হতে পারতো ইত্যাদি ইত্যাদি।

চরকি এবং সাজগোজ এর এই পার্টনারশীপটা আসলে অনেকটা এক্সপেরিমেন্টই ছিল বলা চলে। 

And it worked really well! 

সুতরাং ভবিষ্যতে আমরা হয়তো এই ধরনের আরো পার্টনারশীপ দেখতে পাবো, সেই সাথে ব্র্যান্ড এনডোর্সমেন্ট বা প্রোডাক্ট প্লেসমেন্টও দেখতে পাব। 

সাজগোজের কোফাউন্ডার এবং সিইও Nazmul Sheikh ভাই এর সাথে গত কয়েকবছরে যখনই আলোচনা করেছি ততবারই তার লংটার্ম ভিশন, নতুন কিছু করার প্রচন্ড ইচ্ছা, ইনোভেটিভ যে কোন কিছুতে ক্যালকুলেটেড রিস্ক নেবার মানসিকতা দেখতে পেয়েছি। 

একটা স্টার্টআপের জন্য ওয়েবফিল্মে স্পন্সর করা একটা সাহসী পদক্ষেপ বলতেই হবে। কিন্তু রেডরামের দুঃসাহসিক গল্পের জনপ্রিয়তা এবং সফলতা সাজগোজ এর লিডারদেরকে ভবিষ্যতে এরকম আরো পদক্ষেপ নিতে কনফিডেন্স দেবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ভিন্নতা সৃষ্টিতে চরকির সফলতা

‘RƎDЯUM’ শব্দটা আসলে MURDER (মার্ডার) শব্দটাকে উল্টোদিক থেকে লেখা বা মিরর। এটা প্রথম ব্যবহার হয়েছিল স্টিফেন কিং এর ‘The Shining’ এ। 

ওটিটি প্লাটফর্মের বাংলা মার্ডার মিস্ট্রি থ্রিলার হিসেবে উল্টো খুনের গল্প ‘রেডরাম’ নিঃসন্দেহে চরকির একটা অনন্য সৃষ্টি। 

পরিচালক ভিকি জাহেদ এবং অভিনেত্রী মেহজাবীন দুইজন এর জন্যই রেডরাম ছিল প্রথম ওয়েবফিল্ম। এর আগে আমরা মেহজাবীন এবং নিশোর চরিত্রগুলোকে কাপল হিসেবেই পেয়েছি, এই প্রথম তাদের চরিত্র নীলা (মেহজাবীন) এবং রাশেদ (নিশো) জুটি না হয়ে বন্ধু আকারে উপস্থাপিত হয়েছে।

সাসপেন্স, থ্রিলার, টুইস্ট এ ভরপুর ‘রেডরাম’ এ নীলা এবং সিআইডি কর্মকতা রাশেদ এর লুক, প্রেজেন্টেশেনও ছিল ভিন্নধর্মী। শুধুমাত্র এই ওয়েবফিল্মের জন্য মেহজাবীন তার ভ্রু কেটে ফেলেছিল। এটা নিয়ে সে ফেইসবুকে একটা ভিডিও পোস্ট করেছিল যেটা ভাইরাল হয়। 

রেডরামে আমরা নীলাকে (মেহজাবীন) প্রেগন্যান্ট হিসেবে দেখেছি, এমনকি তার মুখে F**k you টাইপ গালাগালিও শুনেছি। মেহজাবীন এর নতুন এই সাহসী লুক প্রশংসার দাবিদার। 

এভাবে এই ওয়েবফিল্মের মাধ্যমে আমরা আমাদের অতিচেনা তারকাদেরকে নিজেদেরকে ভেঙ্গেচুরে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করতে দেখেছি যা কিনা তারকাদের পাশাপাশি নিঃসন্দেহে পরিচালক ভিকি জাহেদ এবং চরকির পুরো টিমের ক্রেডিট।

চরকি চাইলে কোন একটা নামকরা মাল্টিন্যাশনাল বা লোকাল কংগ্লোমারেট এই ওয়েবফিল্মে স্পন্সর হিসেবে নিতে পারতো (এবং এর ফলে মেবি টাকাপয়সাও আরো বেশি পেত)। কিন্তু লোকাল প্রমিজিং স্টার্টআপ এবং ইকোসিস্টেমকে ইন্সপায়ার করতে তারা সাজগোজের মতো কোম্পানির সাথে পার্টনারশীপটা করেছে। এটাও অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।  

সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

সাজগোজের মতো ইকমার্স স্টার্টআপ কোম্পানি এবং চরকির মতো ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মের মেলবন্ধন, অরিজিনাল বাংলা থ্রিলার ওয়েবফিল্ম নিয়ে দর্শকদের মাতামাতি আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। 

সামনের দিনগুলোতে আরো অনেক অনেক কোম্পানি এগিয়ে আসুক, এরকম সাহসী পদক্ষেপ নিক এবং ইনোভেটিভ কাজ করুক এই আহবান জানিয়ে এই মিনি কেইস স্টাডিটা শেষ করছি।

আপনার মূল্যবান মতামত জানানোর জন্য আমন্ত্রণ রইলো 🙂

গত কিছুদিন ধরে ব্র্যান্ড পাড়ায় জমজমাট আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের একটা  ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে। 

৯ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সাকিব তার ফেইসবুক ভেরিফাইড পেইজ থেকে করা পোস্টাতে লিখেছিলেন, ‘বুঝতে পারছি না, আমার জুতা বেশি সুন্দর নাকি ফ্লোর? আপনাদের কি মনে হয়?’ 

বোঝাই যাচ্ছিল এটা সম্ভবত কোন টাইলসের বিজ্ঞাপন। পরবর্তীতে ১২ সেপ্টেম্বর, রবিবার DBL Ceramics সাকিব কে তাদের ব্র্যান্ড এম্বাসেডর হিসেবে ইন্ট্রোডিউস করে।

এই কয়দিন ধরে  ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার্সরা সাকিবের এই এনডোর্সমেন্ট এর effectiveness, কন্টেন্ট, মেসেজ, কপিরাইটিং ইত্যাদি নিয়ে কাঁটাছেড়া করছেন।

কিছুদিন আগে বিশ্বের অন্যতম সেরা এডভার্টাইজিং এজেন্সি Ogilvy এর Chief Creative Officer (Worldwide) এবং ইন্ডিয়া শাখার Executive Chairman পীযূশ পান্ডের বই ‘Pandeymonium: Piyush Pandey On Advertising’ পড়ছিলাম। 

সাকিব এবং সেলিব্রিটিদের নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে বইটাতে লেখা পীযূশ পান্ডের কিছু মহামূল্যবান কথা মনে পড়লো। যেহেতু ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের কালচারাল কিছু মিল আছে তাই নিচে Pandeymonium বই থেকে প্রাসঙ্গিক কিছুটা অংশ বাংলায় অনুবাদ করে লিখলাম।

“ইন্ডিয়ার মুভিস্টার এবং ক্রিকেটারদের প্রতি একটা সুপ্রিম ফ্যাশিনেশন আছে। যার ফলে এখানের প্রতি তিনটা কমার্শিয়াল এর একটাতে এই দুইটা ক্যাটাগরির একটা ফিচার করা হয়।

যেটা আমাকে বিস্মিত করে তা হচ্ছে বহু কমার্সিয়াল যেগুলো সেলিব্রিটিদের ফিচার করে (স্পেশালি ক্রিকেটার) সেগুলো terrible. 

এর কারণটা হচ্ছে এজেন্সি, ক্লায়েন্ট এবং ক্রিয়েটিভ মানুষজন একজন স্টারকে পাবার সাথে সাথেই তাদের মধ্যে আলসেমি ভর করে – তারা মনে করে তাদের কাজ শেষ!

আমি (পীযূশ পান্ডে) মুভি স্টার এবং ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করে যা শিখেছি তা হচ্ছে ঠিক উলটো। যখন আপনি একজন বিখ্যাত পার্সোনালিটি পাবেন, তখন আপনাকে কমিউনিকেশন এর প্রতিটা দিকে নিয়ে দশ গুণ বেশি কাজ করতে হবে। আপনাকে মনে রাখতে হবে যে বেশিরভাগ ক্রিকেটাররা ভাল অভিনেতা না (যেরকম বেশিরভাগ অভিনেতা ভাল ক্রিকেটার না)! তাই তারা ইফেক্টিভলি ‘lines’ ডেলিভারি করতে পারে না।

বেশিরভাগ সেলিব্রিটির জন্য, একটা ক্যাম্পেইনে কাজ করা সিমপ্লি একটা transaction. তারা নির্দিষ্ট কিছুটা সময় দেবে, পারফর্ম করবে, চলে যাবে। যদি আপনি তার কাছ থেকে বেস্ট আউটপুট আনতে চান, তাহলে আপনাকে অসাধারণ একটা script তৈরি করতে হবে এবং তাকে এই ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে এক্সাইটেড করতে হবে।”

আমার (মার্ক অনুপম মল্লিক) কাছে পীযূশ পান্ডের কথাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে, এবং সাকিবের সিরামিক এড সহ অন্যান্য অনেক সেলিব্রিটির এডেই এই গ্যাপটা দেখতে পেয়েছি। 

অনেক সময়ই ব্র্যান্ড বা এজেন্সি সাকিবের মতো স্টারকে অনবোর্ড করতে পারলেই মনে করে শুধুমাত্র ফেইসভ্যালু দিয়ে কাজ হয়ে যাবে। যে পরিমাণ অর্থ, সময়, ইফোর্ট তারা একজন স্টারকে পেতে ব্যয় করে তার সিকিভাগ তারা একটা well crafted ক্যাম্পেইন ডিজাইন করতে, কপি লিখতে, স্ক্রিপ্ট লিখতে ব্যয় করে না।

শুধু ব্র্যান্ড বা এজেন্সি এই দোষে দুষ্ট তা না, এমনকি সেলিব্রিটিরা নিজেরাও প্রায়ই একই ভুল করে। 

উদাহরণস্বরুপ, কিছুদিন আগে আমার আরেকটা বিজ্ঞাপন চোখে পড়েছিল, যেখানে সাকিব আল হাসান তার নতুন স্বর্ণ ব্যবসার কথা ঘোষনা করছিলেন। 

বিজ্ঞাপনটা দেখার পর আমি literally তিনবার নামটা চেক করেছি, এটা কি আসলেই সাকিব আল হাসান? ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান? আমাদের সাকিব?

না, সাকিব স্বর্ণ ব্যবসা শুরু করেছেন সেজন্য না। কিন্তু বিজ্ঞাপন এর ছবি, কালার, ব্র্যান্ডিং এবং কপিরাইটিং এতটাই নিম্নমানের ছিল যে আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাছ থেকে কোন বিজ্ঞাপন এলে সেটা বিশ্বসেরা হবে আমি ধরে নিয়েছিলাম। কিন্তু এটা দেখে মনে হচ্ছিল নীলক্ষেতের ফটোকপির দোকানের টুকটাক কাজ জানা কোন গ্রাফিক্স ডিজাইনারকে দিয়ে এক সন্ধ্যায় কপি করে বানানো অত্যন্ত সস্তা কোন লিফলেট।

অনেকটা ওভারব্রিজের নিচে জোর করে হাতে গুজে দেয়া কিংবা বাসের জানালা দিয়ে কোলের উপর ছুড়ে মারা কোন স্বপ্নে পাওয়া যৌনশক্তি বর্ধক যাদুকরী কবিরাজি ওষুধের লিফলেটের মতো!

কিসের কপিরাইটিং, কিসের কালার, কিসের ব্র্যান্ডিং, কিসের ল্যাঙ্গুয়েজ, কিসের কোয়ালিটি মার্কিটিং!

গুরু পীযূশ পান্ডের বই পড়ার পর বুঝতে পারলাম – সাকিবের মতো বিশ্বসেরা ক্রিকেটার আসলে মাঠে ভাল, কিন্তু তার কাছ থেকে কোয়ালিট মার্কেটিং আশা করাটা ঠিক হবে না।

ক্যাম্পেইন ফাটিয়ে দেবার কাজটা করতে হবে এজেন্সিকে, ব্র্যান্ডগুলোকে। 

আর সেই সাথে সেলিব্রিটির ম্যানেজার এবং নিজস্ব টিমকে নিশ্চিত করতে হবে তার ব্র্যান্ড ভ্যালুটা যেন ক্ষতিগ্রস্থ না হয়। শর্ট টাইমে কিছু কুইক মানি কামাতে গিয়ে বিতর্কিত কোম্পানির সাথে জড়িয়ে যেন বহুদিনের গড়ে তোলা পারসোনাল ব্র্যান্ডটা যেন থুবড়ে না পড়ে।

আমাদের দেশে অনেক রিসোর্সই লিমিটেড, সেলিব্রিটিও সংখ্যায় লিমিটেড। ব্র্যান্ডের সাথে জড়িত সবাই এই লিমিটেড রিসোর্সগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দিন দিন আরো ভাল রেজাল্ট বের করে আনুক এই প্রত্যাশা থাকলো।

“When you work with a celebrity, the viewer must find the celebrity, the script and the idea memorable, not just the celebrity.” Piyush Pandey

ছোটবেলাতে আমার বাসার ড্রয়িং রুমে বিশাল একটা পোস্টার টাঙ্গানো ছিল যেখানে ধবধবে সাদা অত্যন্ত তেজী একটি ইউনিকর্ণ সগর্বে একা দাঁড়িয়ে উঁচু এক পাহাড়ের চুড়ায়। সেই থেকে ফ্যান্টাসির এই ম্যাজিকাল প্রানীটির প্রতি আমার বিশেষ একটা fascination রয়েছে। এজন্যই আপনি হয়তো খেয়াল করেছেন মার্কেটিং এবং বিজনেস স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আলোচনায় metaphor হিসেবে আমি প্রায়ই Unicorn ব্যবহার করি।

মিথলজিতে ইউনিকর্ণ অত্যন্ত রহস্যময় বিখ্যাত একটি প্রানী – যেটি দেখতে অনেকটা শুভ্র অশ্ব বা ঘোড়ার মতো, কিন্তু মাথায় একটি খাড়া শিং! সৌন্দর্য্য, শুদ্ধতা, তেজ, হিলিং পাওয়ার, বিদ্যুৎ বেগ এবং জাদুকরী ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ইউনিকর্ণকে দেখা হয়েছে সুপ্রাচীন কাল থেকে। 

কিন্তু যখন আমি Unicorn Digital Marketer বলছি, তখন কিন্তু কোন ম্যাজিকাল পাওয়ার এর কথা বলছি না।

রূপক অর্থে ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার বলতে আমি বোঝাতে চাচ্ছি সেই সকল বিরল এবং লিজেন্ডারি মার্কেটারদেরকে – যারা নিজের ফিল্ডে সেরাদের সেরা, exceptional নলেজ এবং ভ্যালুয়েবল স্কিল কাজে লাগিয়ে নিজ নিজ অর্গানাইজেশনে explosive রেজাল্ট নিয়ে আসে এবং যাদের সচারচর খুজে পাওয়া যায়না।

Marketing is not magic. সুতরাং জাদুবিদ্যা নয়, বরং ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটাররা exceptional ইফোর্ট এর মাধ্যমেই insane রেজাল্ট নিয়ে আসে। এই আল্ট্রা-ডিজিটাল যুগে প্রয়োজনীয় স্কিলগুলোতে মাস্টারি অর্জন করতে পারলে আপনিও নিজেকে এবং আপনার টিমকে গড়ে তুলতে পারবেন সেরাদের সেরা হিসেবে। চলুন আজকে একজন ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটারকে এনাটমি করলে পাওয়া যায় এমন মোস্ট ইম্পর্টান্ট ৫ টি হার্ড স্কিল এবং ৫ টি সফটি স্কিল এনালাইসিস করি এবং সেগুলোতে মাস্টারি অর্জন করার রাস্তা খুজি।

ইউনিকর্ন ডিজিটাল মার্কেটারের 5 টি HARD স্কিল 

1. Data Driven Marketing and Analytics

ডিজিটাল মার্কেটিং এর অন্যতম সেরা এডভান্টেজ হচ্ছে রিয়েল টাইম ইন-ডেপথ ডাটা এনালাইসিস করতে পারা এবং অনেক বেশি ডাটা ড্রিভেন ডিসিশন নেবার সুযোগ। সাধারণত বেশিরভাগ মার্কেটাররাই এই জায়গাতে স্ট্রাগল করেন কারণ এটা এমন একটা স্কিল যেটা শুধু কমন সেন্স দিয়ে হয় না। বছরে পর বছর যথেষ্ট পরিমান সময় এবং ইফোর্ট দিয়ে তিলে তিলে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হয়। 

লম্বা সময় ধরে consistently পরিশ্রম করার মানসিকতা, ধৈর্য্য এবং চেষ্টা বেশিরভাগ মানুষেরই থাকেনা। তাই আপনি যত বেশি ইফোর্ট দিবেন ততই অন্যদের ধরাছোয়ার বাইরে চলে যাবেন।

“In God we trust, All others must bring data” – W. Edwards Deming

2. Expertise in Specific Platform(s)

Neil Patel, Ryan Deiss, John Loomer, Ann Handley, Mari Smith, Russell Brunson, Sean Ellis – প্রত্যেকেই অনলাইন মার্কেটিং এর জগতে এক একজন ইউনিকর্ণ। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখবেন প্রত্যেকেই কিন্তু স্পেসিফিক একটি বা দুইটি প্লাটফর্মে one of the best in the world. কেউ ফেইসবুকে, কেউ গুগল কিংবা ইউটিউব, ওয়েবসাইট  কিংবা মোবাইল, SEO, গ্রোথ হ্যাকিং, ফানেল বিল্ডিং ইত্যাদি। 

আসলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর স্পেকট্রামটাই এত ওয়াইড, সব গুলো প্ল্যাটফর্মে একা রপ্ত করা সম্ভবও না এবং সেই চেষ্টা করা উচিতও না। আপনার পছন্দের এবং প্রয়োজনীয় একটা বা দুইটা প্ল্যাটফর্মে laser focused হলেই আপনার পক্ষে সম্ভব সবচেয়ে গভীরে যাওয়া এবং mastery অর্জন করা।

3. Master in Copywriting

আজকে থেকে একশো বছর আগেও একজন world-class মার্কেটারের অন্যতম গুণ ছিল copywriting, আজ থেকে একশো বছর পরও সেটা থাকবে। David Ogilvy, Claude Hopkins রা ট্রেডিশনাল মিডিয়া দাপিয়ে বেড়িয়েছেন তাদের কপিরাইটিং স্কিল এর জন্য। ঠিক তেমনি একজন ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে আপনাকে জানতে হবে কিভাবে একটা ডিজিটাল এড persuasive করা যায়, একটা long form online sales page এর আবশ্যক এলিমেন্ট গুলো কি কি, হেডলাইন এ কত প্রকার hook ব্যবহার করা যায় এবং কিভাবে, কোন word কিভাবে psychology কে প্রভাবিত করে ইত্যাদি। 

আমাদের যুগের অনেক ডিজিটাল মার্কেটারের ধারণা তার কাজ শুধুমাত্র awareness তৈরি করা, ব্র্যান্ডিং করা, এইজন্য নিজেকে একজন Salesman হিসেবে চিন্তা করতে পারে না। এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে বের হয়ে আসতে হবে এবং sell করা শিখতে হবে, তা ট্রেডিশনাল হোক আর ডিজিটাল মিডিয়া হোক। 

‘If it doesn’t sell, it isn’t creative.’ – David Ogilvy

4. Basic Design Skills with Attention to Details

ডিজিটাল মিডিয়াতে image খুবই পাওয়ারফুল রোল প্লে করে। যদিও গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার ক্রিয়েটিভিটি এবং টুলস ব্যবহার করে গ্রাফিক্স তৈরি করে, একজন সেরা ডিজিটাল মার্কেটার বেসিক টুলস এর ব্যবহার জানবে, রিসার্চ এ দক্ষ হবে এবং ফিডবীক দেবার জন্য খুবই critical eye এর অধিকারী। শুধুমাত্র aesthetic না, context, consequence ইত্যাদি পর্যালোচনা করা এবং অনাকাংখিত side effect বুঝতে পারার মতো তীক্ষ্ণ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন হতে হবে।

Easy to implement hacks to improve traffic, conversion and revenue online!

GET YOUR

FREE COPY NOW!

5. Tech Savvy with Strong Technical Skill

মেজর এড প্ল্যাটফর্ম যেমন ফেইসবুক, গুগল দিন দিন আরো বেশি পাওয়ারফুল হচ্ছে, সাথে সাথে তাদের অসংখ্য ফিচারগুলো আরো এডভান্সড এবং কমপ্লেক্স হচ্ছে। এর সাথে যোগ হচ্ছে Marketing Automation, পারফরমেন্স মনিটরিং, পারসোনালাইজড মার্কেটিং এবং Conversion Rate Optimization করার জন্য নতুন নতুন মার্কেটিং টুল।

MarTech এর যুগে মডার্ন ডে ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে তাই আপনার টেকনিক্যাল স্কিলগুলোতে শান দিতে হবে এবং নতুন নতুন টেক-স্কিল আপনার marketing arsenal এ যোগ করতে হবে।

ইউনিকর্ন ডিজিটাল মার্কেটার এর 5 টি SOFT স্কিল

6. Strategic Thinker

ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার হতে হলে strategic thinking এর কোন বিকল্প নেই। 

“Strategy is about making choices, trade-offs; it’s about deliberately choosing to be different.” – Michael Porter

একজন ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার তাই অনেকখানি সময় কাটায় স্ট্রাটেজি ঠিক করতে। উদাহরণস্বরুপ, একজন সাধারণ মার্কেটার চিন্তা করে কিভাবে একটা প্ল্যাটফর্ম এড ক্যাম্পেইন রান করবে অথবা একটা ক্যাম্পেইন চালাবে। কিন্তু একজন স্ট্র্যাটেজিক থিঙ্কার মার্কেটার সবার আগে তার Customer Avatar তৈরি করে তার IDEAL Customer কে ডিফাইন করে। 

ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার তার বিজনেসের ফুল স্ট্রাটেজি এবং প্ল্যান করার জন্য তাই Digital Marketing Blueprint ডিজাইন করে। তারপর অনেক সময় নিয়ে তার বিজনেস অনুযায়ী Marketing Funnel তৈরি করে। এরপর সেই অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন Campaign Launch Strategy এবং Content Strategy তৈরি করে এবং সেই অনুযায়ী এডভার্টাইজিং করে।

এভাবে প্রতিটা কাজের জন্যই তার নিজস্ব স্টাইল এবং proven method রয়েছে যা সে বারবার ব্যবহার করে, এক্সপেরিমেন্ট এবং লার্নিং কাজে লাগিয়ে নিয়মিত আরো ডেভেলপ করতে থাকে।

7. Creative Genius

Marketing Unicorns are IDEA Driven.

ক্রিয়েটিভ মার্কেটিয়ার এর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নতুন নতুন কনসেপ্ট এবং আইডিয়া নিয়ে আসবে, যা কিনা তার কোম্পানিকে কম্পিটিটিরদের থেকে আলাদা করে তুলবে এবং এক্সাইটিং গ্রোথ আনতে সাহায্য করবে। তবে শুধুমাত্র ক্রিয়েটিভ আইডিয়া তৈরি করাই না, একজন ইউনিকর্ণ মার্কেটার জানে যে আইডিয়াকে ইফেক্টিভলি এবং এফিসিয়েন্টলি execute করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং সেক্ষেত্রেও সে অত্যন্ত পারদর্শী।

8. Master Storyteller

চারপাশের অসংখ্য distraction, স্বল্প attention span এবং হাজারো কোম্পানির মার্কেটিং মেসেজ সম্বলিত noisy ডিজিটাল স্পেসে কাস্টোমারের কাছে একটা simplified এবং clear মেসেজ নিয়ে পৌছানোটা এখন অনেকটা যুদ্ধের সমত্যুল। সেই যুদ্ধে জয়লাভ করার জন্য অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র হচ্ছে নিজের বিজনেসকে একটা Storybrand হিসেবে উপস্থাপন করতে পারা এবং Customer কে Hero হিসেবে তুলে ধরা। 

“The most powerful person in the world is the storyteller.” Steve Jobs

Unicorn Digital Marketer হতে চাইলে তাই নিঃসন্দেহে আপনাকে একজন মাস্টার স্টোরিটেলার হতে হবে – সোশ্যাল মিডিয়া, ওয়েবসাইট সহ সকল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টেক্সট, ইমেজ, ভিডিও ইত্যাদি সকল ফরম্যাট ব্যবহার করে কিভাবে আপনার ব্র্যান্ডকে একটা Storybrand হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় সেটি জানতে হবে। 

9. Extremely Resourceful

বিজনেস মানেই সেখানে resource constraint থাকবে, তাই একজন Unicorn Digital Marketer জানে কিভাবে হাতের নাগালে থাকা সবগুলো টুল, পার্সোনেল এবং রিসোর্সকে সর্বোত্তম উপায়ে কাজে লাগিয়ে সর্বোচ্চ ROI নিয়ে আসা যায়। এই জন্য কখনো সে ফ্রিল্যান্সার হায়ার করবে গ্রাফিক ডিজাইন এর জন্য, কখনো এজেন্সির সাহায্য নেবে ক্যাম্পেইন ডিজাইন করার জন্য, কখনো কনসালট্যান্ট এর দ্বারস্থ হবে এডভান্সড স্ট্রাটেজি তৈরি করতে আবার প্রয়োজনে দক্ষ টিম মেম্বার হায়ার করবে।

ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার কখনো একা একা silo তে বসে থাকে না। বরং সে networking করে, Mutually beneficial প্রফেশনাল রিলেশনশিপ তৈরিতে ইফোর্ট দেয়, প্রয়োজনে অন্যদেরকে সাহয্যের হাত বাড়িয়ে দেয় এবং Collaboration এ বিশ্বাস করে। 

খুব ভাল ভাবে খেয়াল করলে দেখবেন, মিথলজিকাল ইউনিকর্ণ প্রাণীটির যেমন স্বাত্বন্ত্র বৈশিষ্ট্য আছে, তেমনি সেরা মার্কেটারদেরও নিজের পাওয়ারফুল এবং ইউনিক একটি Personal Brand থাকে।

10. Highly Flexible and Learning Mentality

World Economic Forum এর রিসার্চ অনুযায়ী, Professional Skill এর Half Life এখন মাত্র ৫ বছর! অর্থাৎ আজ থেকে পাঁচ বছর পর আমাদের কারেন্ট স্কিলসেট এর ভ্যালু অর্ধেক হয়ে যাবে। 

Digital Marketing এর মতো highly dynamic এবং continuously evolving ফিল্ডে স্পেসিফিক স্কিল সেট obsolete হয়ে যাবার সম্ভাবনা আরো অনেক বেশি। তাইতো ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেট একজন relentless learner – সে সব সময় লেটেস্ট আর্টিকেল এবং নতুন বই পড়ার মাধ্যমে, বিভিন্ন ফোরামে, আলোচনাতে যোগদান করে, এডভান্সড ট্রেইনিং, সার্টিফিকেশন কোর্স কিংবা ওয়ার্কশপে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে নিজেকে আপডেটেড রাখে।

Unicorn Digital Marketers are MADE, not Born!

আপনার জন্য গুড নিউজ হচ্ছে – একজন ইউনিকর্ণ ডিজিটাল মার্কেটার এর যে সকল characteristics এবং স্কিল আমি এখানে বর্ণনা করেছি তার সবগুলোই শেখা যায়, তৈরি করা যায় আগ্রহ, একাগ্রতা, ডিসিপ্লিন এবং কঠোর পরিশ্রম এর মাধ্যমে। কিভাবে উপরের প্রতিটা স্কিল ডেভেলপ করা যেতে পারে সেগুলো নিয়ে আমরা অন্য কোন দিন বিস্তারিত আলোচনা করবো। 

বদলে যাওয়া এই ডিজিটাল দুনিয়াতে প্রতিটা বিজনেসকে শিখতে হবে কিভাবে ডিজিটাল স্পেসে কাস্টোমারের মাইন্ডে একটি স্ট্রং positioning তৈরি করে নেয়া যায়। অসংখ্য distraction, অতিস্বল্প attention span, ছোট-বড় হাজারো কোম্পানির মার্কেটিং মেসেজ সম্বলিত noisy ডিজিটাল স্পেসে কাস্টোমারের মন জয় করার চেষ্টা এখন যুদ্ধেরই সমতুল্য।

বাংলাদেশে জনসংখ্যার 41% (6.65 কোটি) এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করছে, আর একটিভ সোশ্যাল মিডিয়া ইউজার রয়েছে 22% (3.6 কোটি)। এই সুবিশাল ইন্টারনেট ইউজারদের মাইন্ডে নিজের ব্র্যান্ড কে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায় সেটা ফিগার আউট করতে পারাটা তাই আমাদের ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স দের জন্য অত্যন্ত জরুরী।

কিন্তু ডিজিটাল স্পেসে আমাদের পদচারণা অপেক্ষাকৃত নতুন হওয়ার কারণে এক্সপেরিয়েন্স, লার্নিং এবং দক্ষতারও প্রচুর ঘাটতি রয়েছে। উন্নত দেশগুলোতে এসব নিয়ে প্রচুর কেইসস্টাডি বা ডাটা থাকলেও সেগুলো অনেক সময় আমাদের সোশ্যাল কনটেক্সট এ রেলিভ্যান্ট হয় না। আনফরচুনেটলি আমাদের দেশে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো নিয়ে তেমন একটা রিসার্চ বা কেইস স্টাডি পাওয়া যায় না।

আমাদের ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স এবং বিজনেসগুলোর সুবিধার্থে তাই ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং, স্ট্র্যাটেজি ইত্যাদি নিয়ে কিছু series of case studies লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু – কিভাবে ডিজিটাল স্পেসে কাস্টোমারের মাইন্ড জয় করার যুদ্ধে জয়লাভ করা যেতে পারে। আর এই আলোচনার সুবিধার্থে আমরা কেইস স্টাডি হিসেবে নিয়েছি দেশের অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড Grameenphone এর রিসেন্ট একটা সাড়া তোলা ডিজিটাল ক্যাম্পেইনঃ ‘ইন্টারনেটের দুনিয়ায় জানতে হবে, কোথায় আপনার থামতে হবে’।

গ্রামীনফোন ক্যাম্পেইনঃ ইন্টারনেটের দুনিয়ায় জানতে হবে, কোথায় আপনার থামতে হবে

গত বছর (2019) এর নভেম্বরে গ্রামীনফোন তাদের ব্র্যান্ড এম্ব্যাসেডর Tahsan কে দিয়ে প্রথম উপরের শিরোনামে একটি awareness campaign তৈরি করে। সমসায়িক কিছু ঘটনাবলীর প্রভাবে এবং ওভারঅল ক্যাম্পেইনটির পাওয়ারফুল মেসেজে ক্যাম্পেইনটি viral হয়ে যায় (আমি সেই সময় এ নিয়ে বিস্তারিত লিখেছিলাম ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স গ্রুপে, পড়ে দেখতে পারেন)।

Well, a lot of things changed in one year!

কোভিড-১৯ গ্লোবাল প্যান্ডেমিক এবং সোশ্যাল ডিসটান্সিং আমাদেরকে আরো অনেক বেশি ডিজিটাল মিডিয়া মুখি করে তুলেছেন এই একবছরে। এবং আনফরচুনেটলি, সোস্যাল মিডিয়া এবং ইন্টারনেটের মিসইউজও সবচেয়ে বেড়ে গিয়েছে এই সময়ে।

স্পেশালি নারী এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদেরকে cyber bullying, গুরুত্বপূর্ণ তথ্যকে টুইস্ট করে ক্ষতিকর সব গুজব, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ ইত্যাদি ইত্যাদি আমাদের সোসাইটিকে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করছে। সাজানো গোছানো সোশ্যাল প্রোফাইলের আড়ালে মুখোশধারী অসংখ্য মানুষ বিচরণ করে বেড়াচ্ছে ইন্টারনেটের আনাচে কানাচে।

এখন সমস্যা হচ্ছে সাইবার ক্রাইম লেভেলের ইস্যুগুলোকে হয়তো ICT এক্ট করে দমন করার চেষ্টা করা যায়, কিন্তু আমরা নিজেদের জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে ইন্টারনেটে যে inappropriate behavior করে চলেছি সেগুলোর প্রতিকার কিভাবে করা সম্ভব?

প্রায়ই দেখা যায় আমরা নিজেরা কিছু না চিন্তা করেই অনেক Meme বানিয়ে ছেড়ে দেই কিংবা শেয়ার করি যা কিনা কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠিকে কষ্ট দেয় , যাচাই না করেই অন্যদের inbox এ ভুল তথ্য পাচার করে দেই, সোশ্যাল মিডিয়াতে পাবলিকলি কাউকে কেন্দ্র করে অবাঞ্ছিত কমেন্ট করে বসি, অন্যের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে পাবলিক ফোরামে অসম্মানজনক কথা বলে তর্ক করি … ইত্যাদি ইত্যাদি।

প্রশ্ন হচ্ছে, এই কাজগুলো কি আমি বা আপনি অনলাইনে না হয়ে অফলাইনে হলে আমাদের বন্ধু-বান্ধবী, রিলেটিভ, সিনিয়র ভাই বোন বা আঙ্কেল আন্টির সাথে সামনা সামনি করতে পারতাম?

Grameenphone as a Brand Stepping in

46.18% মার্কেট শেয়ার এবং সাড়ে সাত (7.5) কোটির উপর একটিভ ইউজার (সূত্রঃ ডেইলি স্টার, জানুয়ারী, 20) থাকা গ্রামীনফোণ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিস প্রোভাইডার এবং অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড।

লিডিং মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রোভাইডার একটা telco কোম্পানির মানুষকে ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন হতে বলাটা একদিকে কিছুটা counterproductive মনে হতে পারে। কিন্তু আরেকদিকে একটা Socially Responsible Company হিসেবে এবং দেশের সব মানুষের কাছেই ইন্টারনেটের ব্যবহারে সচেতনতা বিষয়ক একটা গ্রহণযোগ্য মেসেজ পৌছে দেবার ক্যাপাসিটির দিক থেকে গ্রামীনফোন পুরোপুরি উপযুক্ত।

তাই এবার একটু ব্যতিক্রম ধর্মী, একটা নয়, পাঁচটি ডিফরেন্ট awareness raising ভিডিও নিয়ে তারা আবার ক্যাম্পেইন লঞ্চ করলো ইন্টারনেটের সচেতনতা বিষয়ে (Link এ ভিডিও গুলোর লিঙ্ক দিয়ে দিলাম, না দেখে থাকলে আগে দেখে নিতে পারেন)।

  1. অফলাইনে তো মুখোশ পরেন না, তাহলে অনলাইনে কেন?
  2. অফলাইনে তো ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করেন না, তাহলে অনলাইনে কেন?
  3. অফলাইনে তো গুজব ছড়ান না, তাহলে অনলাইনে কেন?
  4. অফলাইনে তো বাজে মন্তব্য করেন না, তাহলে অনলাইনে কেন?
  5. অফলাইনে তো অন্যকে বিরক্ত করেন না, তাহলে অনলাইনে কেন?

প্রতিটা ভিডিওর মেসেজ একদম crystal clear : অফলাইনের মতো অনলাইনেও কি করা যাবে আর কি করা যাবে না সেটা আমাদেরকে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং inappropriate বিহেভিয়ার থামাতে হবে।

আমার ফাইন্ডিংস অনুযায়ী, প্রতিটা ভিডিও মোটামুটি ৩-৪ মিলিয়ন টাইম ভিউ হয়েছে শুধুমাত্র Grameenphone এর ফেইসবুক পেইজে, অর্থাৎ FB পেইজে টোটাল ২০ মিলিয়ন ভিউ। এছাড়াও ইউটিউব, আনপাবলিশড এড ইত্যাদি তো আছেই।

যারা নিজেদের বা কোম্পানির বিজনেস ফেইসবুক পেইজ মেইনটেইন করেন তারা জানেন একটা ভিডিও রিলিজ করার পর ভিউ এর থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে audience response, স্পেশালি কমেন্ট সেকশনে এবং অর্গানিক ডিসকাশনে। বাংলাদেশে আমরা খুব ভাল ভাল উদ্যোগও হারিয়ে যেতে বা তীব্র বিরোধিতার শিকার হতে দেখেছি অবাঞ্ছিত এবং সুযোগসন্ধানী অনেক গোষ্ঠীর কাছ থেকে। 

তাই একটা ক্যাম্পেইজ রিলিজ করলে ব্র্যান্ড প্র্যাক্টিশনার্স দের প্রথম চিন্তাটাই থাকে ইনিশিয়ালি অডিয়েন্স কিভাবে একটা রিসিভ করে এবং কিভাবে রিএক্ট করে। ওভারওল ভিউ, কমেন্ট এবং অন্যান্য পজিটিভ ডিসকাশন থেকে আমরা ধরে নিতে পারি গ্রামীনফোন এর এই ক্যাম্পেইনটা তার লক্ষ্য অর্থাৎ awareness raising এ সফল হয়েছে। 

অনেকক্ষণ সোশ্যাল রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে কথাবার্তা বললাম, এবার চলুন দেখি এটা কিভাবে গ্রামীনফোনকে Digital Scope এ একটা positioning তৈরি করতে হেল্প করেছে এবং কিভাবে এর থেকে লার্নিং নিয়ে আপনি আপনার বিজনেসে কাজে লাগাতে পারেন।

Something that GP has never done before

এর আগে গ্রামীনফোনের অনেক ভাল ভাল ক্যাম্পেইন আমরা দেখেছি, সেই ছোটবেলায় দেখা চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত ‘মা’ TVC এখনও মনে দাগ কেটা আছে। কিন্তু আমাদের আলোচিত ক্যাম্পেইনটা তাদের আগের সমস্ত ক্যাম্পেইন থেকে কিছুটা আলাদা। নিচে কিছু key পয়েন্ট আলোচনা করছিঃ

1. Thumbstopper Type 20 sec videos: 

এর আগে গ্রামীনফোন কখনো জাস্ট 20 সেকেন্ডের কোন ভিডিও ক্যাম্পেইন রিলিজ করেনি। এবারের ভিডিও গুলো ছিল thumbstopper টাইপ – যেখানে একটা strong emotional core কে কেন্দ্র করে একটা short-form (সাধারণত 10 সেকেন্ড) ভিডিও তৈরি করা হয় যার মাধ্যমে ব্র্যান্ড কোন একটা story তুলে ধরে। বেশ কিছু রিসার্চের ফাইন্ডিংস অনুযায়ী এভারেজ human attention span এখন 8 (eight) সেকেন্ড, যা কিনা কিনা Goldfish এর থেকেও এক সেকেন্ড কম! এই ভিডিওগুলোর grand opening, ভিজুয়াল, স্টোরি টেলিং, surprise element সব কিছুই এই less-than-goldfish-attention গ্রাবিং করার জন্য যথেষ্ট।

2. Social Media Only

গ্রামীনফোন সহ বড় বড় কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগ ক্যাম্পেইনই ট্রেডিশনাল এবং ডিজিটাল সব মিডিয়াই কাভার করতে চেষ্টা করে। এর ফলে রিচ, ইফেক্টিভনেস, বাজেট অপটিমাইজেশন সবকিছুই বেটার হয়। কিন্তু এই ক্যাম্পেইনটি GP শুধুমাত্র অনলাইনে সীমাবদ্ধ রেখেছে, TVC তে যায় নি। এর অন্যতম প্রধান কারণঃ ভিডিও এর মেসেজগুলো যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে এবং দেখছে তাদের জন্য যতটা রেলিভ্যান্ট mass people এর কাছে ততটা রেলিভ্যান্ট নাও হতে পারে (এবং মেসেজটা একটু স্ট্রং ও বটে)। কিন্তু ডিজিটাল স্পেসে আমরা যারা রয়েছি তাদের মাইন্ডে GP কিছুক্ষণের জন্য হলেও খুব মূল্যবান একটা স্পেইস দখল করে নিয়েছে।

3. Use of Reverse-psychology

মাত্র 20 সেকেন্ডের ভিডিওগুলোতে খুব ক্র্যাফটফুলি reverse-psychology টেকনিক ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রথম 12-13 সেকেন্ডে যে desired বিহ্যাভিয়ারটা মানুষের কাছে আশা করা হচ্ছে তার উল্টোটা দেখিয়ে এর অপকারিতা বোঝানো হয়েছে। ছোট্ট এই ভিডিওগুলোর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত Surprise element এর উপযুক্ত ব্যবহার করে social awareness তৈরির পদ্ধতি যথেষ্ট ইফেক্টিভ বলেই প্রতিফলিত হচ্ছে।

4. Series of Videos

যেহেতু thumbstopper টাইপ ভিডিও, একটা স্পেসিফিক স্টোরি বা এক্সাম্পল একটা ভিডিওতে দেখানো হয়েছে এবং এরকম পাঁচটা ভিডিওর একটা সিরিজ ক্রমান্বয়ে রিলিজ করা হয়েছে। প্রতিটা ভিডিও আগের ভিডিওর কোর মেসেজ কে resonate করে এবং বিলিভ সিস্টেমটাকে আরো stronger করে, সেই সাথে recall করতেও সহায়তা করে।

Winning the Battle for Customers’ Mind

Al Ries এবং Jack Trout তাদের বিশ্ববিখ্যাত ক্লাসিক “Positioning: The Battle for Your Mind” বই, যা কিনা 20-megaton bomb এর মতো পুরো মার্কেটিং দুনিয়াকে কাপিয়ে দিয়েছিল, সেখানে লিখেছিলেনঃ

“THE BASIC APPROACH OF POSITIONING IS NOT TO CREATE SOMETHING NEW AND DIFFERENT, BUT TO MANIPULATE WHAT’S ALREADY UP THERE IN THE MIND, TO RETIE THE CONNECTIONS THAT ALREADY EXIST.” – AL RIES

অনেক কোম্পানিই Brand Positioning তৈরির এই এপ্রোচটা বুঝতে ব্যর্থ হয়, চেষ্টা করে কমপ্লিটলি নতুন কোন কিছু তৈরি করার। কিন্তু ব্র্যান্ড পজিশনিং তৈরির জন্য প্রয়োজন কাস্টোমারের মাইন্ডে আপনার কোম্পানি সম্পর্কে যে perception আছে সেটাকে সঠিক রাস্তায় পরিচালিত করা, শক্তিশালী করা।

গ্রামীনফোন নিজেদের ব্র্যান্ডকে এভাবে ডিফাইন করে, “Grameenphone is here to inspire. We provide the power of digital communication, enabling everyone to improve their lives, build societies and secure a better future for all.”

মনে রাখতে হবে brand building একটা লং টার্ম গেইম। শুধু ডিফাইন না, GP ট্রেডিশনাল এর পাশাপাশি ডিজিটালিও ডিফরেন্ট এক্টিভিটি এর মাধ্যমে উল্লেখিত ভ্যালুগুলো বছরের পর বছর কন্টিনিউয়াসলি প্রোভাইড করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। যার ফলে তারা কাস্টোমারের মাইন্ডেও একটা সুপারস্ট্রং brand হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছে।

Let’s Prepare for the Battle of Mind!

এই ultra-digital যুগে প্রতিটা বিজনেস, স্টার্টআপ থেকে conglomerate কেই অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে চিন্তা করতে হবে কিভাবে নিজেদের ক্যাপাসিটি এবং রিসোর্স সবটুকু কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল স্পেসগুলোতে অন্যদের থেকে differently stand out করা যায়, story telling এর সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কিভাবে কাস্টোমারের সাথে আরো বেশি connected হওয়া যায় এবং সর্বোপরি কাস্টোমারের মাইন্ডে একটা স্ট্রং brand positioning তৈরি করা যায়।

Kudos to the Grameenphone team and Agency ‘Magnito Digital’ for this awareness campaign, and special thanks to Sabbir Ahmed vai for providing me the valuable info needed for this case study!

আমার ইচ্ছে আছে সময় পেলে নেক্সট কয়েক মাসে ডিজিটাল ব্র্যান্ডিং, মার্কেটিং এবং স্ট্র্যাটেজি নিয়ে আরো বেশ কিছু ইন্টারেস্টিং কেইস স্টাডি লিখবো। আমরা নিজেদের মধ্যে এনালাইসিস এবং ডিসকাস করে পারি একসাথে গ্রো করতে এবং বেটার ব্র্যান্ড বিল্ড করতে। সকল বিজনেস লিডার এবং ব্র্যান্ড প্র্যাকটিশনার্স দেরকে তাই আহবান জানাচ্ছি এই উদ্যোগে কন্ট্রিবিউট করতে।

নিজেকে একজন সুদক্ষ ব্র্যান্ড প্রাকটিশনার্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জন্য অভিজ্ঞ মার্কেটারদের কাছে থেকে শেখার কোন বিকল্প নেই। আর এই লার্নিং এর অন্যতম বড় স্কোপ হচ্ছে – তাদের বহু বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা বই।

আমি আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের বইগুলোর নাম এবং শর্ট রিভিউ আপনার সাথে শেয়ার করছিলাম। আগের পর্বে 10 টির নাম দিয়েছিলাম, আজ বাকী 10 টি শেয়ার করবো…আশা করি এর মাধ্যমে আমরা সবাই একসাথে আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।

শুরু করার আগে একটা কথা – আমার পছন্দের 20 টি মার্কেটিং বই এর নাম দিয়েছি মানে কিন্তু এই না যে এগুলোই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মার্কেটিং বই বা আপনারও সবগুলোই টপ ফেভারিট হবে। আমার কাজের এরিয়া যেহেতু সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস স্ট্র্যাটেজি, MarTech, কনসাল্টেন্সি ইত্যাদি — সেহেতু সাধারণত কোন ফ্রেমওয়ার্ক বেইজড বই আমার পছন্দের শীর্ষে থাকে। আপনার পছন্দের বই ডেফিনিটলি আমার থেকে কিছুটা ডিফরেন্ট হতেই পারে। এগুলোর মধ্যে যেগুলো আপনারও চয়েজ হবে সেগুলোই বেছে নেবেন।

প্রথম পর্বঃ Top 20 Marketing Books You can Read in 2020

11. Growth Hacker Marketing: A Primer on the Future of PR, Marketing, and Advertising

নিজেকে একজন সুদক্ষ ব্র্যান্ড প্রাকটিশনার্স হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জন্য অভিজ্ঞ মার্কেটারদের কাছে থেকে শেখার কোন বিকল্প নেই। আর এই লার্নিং এর অন্যতম বড় স্কোপ হচ্ছে – তাদের বহু বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা বই।

আমি আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের বইগুলোর নাম এবং শর্ট রিভিউ আপনার সাথে শেয়ার করছিলাম। আগের পর্বে 10 টির নাম দিয়েছিলাম, আজ বাকী 10 টি শেয়ার করবো…আশা করি এর মাধ্যমে আমরা সবাই একসাথে আরো সামনে এগিয়ে যেতে পারবো।

শুরু করার আগে একটা কথা – আমার পছন্দের 20 টি মার্কেটিং বই এর নাম দিয়েছি মানে কিন্তু এই না যে এগুলোই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ মার্কেটিং বই বা আপনারও সবগুলোই টপ ফেভারিট হবে। আমার কাজের এরিয়া যেহেতু সফটওয়্যার এঞ্জিনিয়ারিং, বিজনেস স্ট্র্যাটেজি, MarTech, কনসাল্টেন্সি ইত্যাদি — সেহেতু সাধারণত কোন ফ্রেমওয়ার্ক বেইজড বই আমার পছন্দের শীর্ষে থাকে। আপনার পছন্দের বই ডেফিনিটলি আমার থেকে কিছুটা ডিফরেন্ট হতেই পারে। এগুলোর মধ্যে যেগুলো আপনারও চয়েজ হবে সেগুলোই বেছে নেবেন।

12. Inbound Marketing: Get Found Using Google, Social Media, and Blogs

ডিজিটাল মার্কেটিং এর দুনিয়াতে Hubspot কোম্পানি সবচেয়ে নামকরাদের একটি। এই বইটা Hubspot এর বিখ্যাত ফাউন্ডারদের লেখা inbound marketing এর একটা primer বলতে পারেন। এটাতে Google search ranking ইম্প্রুভ, সোশ্যাল মিডিয়া কমিউনিটি তৈরি, অনলাইন মার্কেটিং ইফোর্ট এনালাইক করা ইত্যাদির উপর অনেক হেল্পফুল টুলস, টিপস এবং স্ট্র্যাটেজি পাবেন। অনেকেই আমার কাছে জানতে চায় ডিজিটাল মার্কেটিং শেখা শুরু করতে হলে কোন বই দিয়ে শুরু করবে…আমি একনামে এটাকে রেফার করি…তারপর তো অন্যান্য রিসোর্স আছেই।

13. Epic Content Marketing: How to Tell a Different Story, Break through the Clutter, and Win More Customers by Marketing Less

Content is King – এটাতো আমরা সবাই জানি। অথচ তারপরও দুঃখজনকভাবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিকাংশ কোম্পানিই কন্টেন্ট মার্কেটিং এর ফুল বেনিফিট নিতে ব্যর্থ! প্রতিদিন শত শত ইমার্স, স্টার্টআপ এমনকি বড় বড় এস্টাবলিশড কোম্পানিকেও দেখি শুধুমাত্র মিনিংলেস ডিসকাউন্ট দিয়ে ওয়ান টাইম কাস্টোমার acquisition করতে চাচ্ছে। না আছে কোন প্রোপার কন্টেন্ট মার্কেটিং প্ল্যান, না আছে কোন সেলস ফানেল! 

এই ভুল স্ট্র্যাটেজিতে মার্কেট শেয়ার বাড়ানোর চেষ্টা না করে কোম্পানিদের উচিত তাদের প্রোসপেক্টকে কন্টেন্ট এর মাধ্যমে ভ্যালু প্রোভাইড করা এবং একটা healthy conversational relationship তৈরি করা। Content Marketing Institute এর ফাউন্ডার Joe Pulizzi কন্টেন্ট মার্কেটিং এর দুনিয়াতে একজন এক্সপার্ট এবং লিজেন্ড হিসেবে পরিচিত – তার লেখা এই বইটিতে অনেক অনেক actionable টিপস এবং ইনসাইট পাবেন যার মাধ্যমে আপনার কোম্পানির কন্টেন্ট মার্কেটিং ইফোর্ট কে সাকসেসফুল করতে পারবেন।

14. Expert Secrets: The Underground Playbook for Creating a Mass Movement of People Who Will Pay for Your Advice

আমার মতে আপনি যদি নিজের Specialized Knowledge মার্কেটিং এর উপর বেস্ট কোন রিসোর্স চান – এই বইটা 100 তে 110! আমার টপ ফেভারিট বই এর মধ্যে একটি এটা। যদিও এটা আপনি নিজেকে কিভাবে expert হিসেবে স্ট্যাবলিশ করবেন তা নিয়ে লেখা অত্যন্ত হেল্পফুল একটা বই, তাছাড়াও নিজের information product এম্পায়ার তৈরির জন্য এই বই আর সমতুল্য বই আমি এখনো পাই নি। আমি আগের পর্বে DotCom Secret বই নিয়ে লেখার সময় বলেছিলাম Russel Branson এই এরিয়াতে একজন জিনিয়াস এবং প্রতিদিন তার কাছ থেকে শিখছি।

আপনি যদি Consultancy Practice, Coaching ইত্যাদি স্টার্ট করতে চান তাহলেও এটা খুবই হেল্পফুল হবে, যদিও কনসাল্টেন্সি প্র্যাকটিস এর উপর আরো বেশ ভাল কিছু বই আছে। 

(আমার ইচ্ছে আছে কিভাবে ঘরে বসেই জব এর পাশাপাশি একটা information product / service বিজনেস বা Consultancy practice স্টার্ট করতে পারেন এ নিয়ে ভবিষ্যতে বিস্তারিত লেখার, এই পয়েন্টটাতে লেখার শেষে আসছি)

15. Don’t Make Me Think: A Common Sense Approach to Web Usability

এই বইটা প্রধানত প্রোগ্রামার এবং ডিজাইনারদের জন্য লেখা – কিন্তু তবুও এটাকে include করার লোভ সংবরণ করতে পারলাম না। MarTech এর দুনিয়াতে মার্কেটিং এবং টেকনোলোজি হাত ধরে চলার সময় আসছে। Usability guru নামে পরিচিত Steve Krug এর গাইডলাইন গুলো আপনাকে হেল্প করবে intuitive navigation এর প্রিন্সিপাল শিখতে, যা অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য খুবই ইম্পর্টান্ট।

16. Purple Cow: Transform Your Business by Being Remarkable

এই noisy মার্কেটে হয় আপনি remarkable, নয়তো আপনি invisible! বর্তমান দুনিয়াতে Seth Godin একজন লিজেন্ডারি মার্কেটার, এবং এই বইটাতে তিনি দেখিয়েছেন কিভাবে একটা crowded marketplace এ stand-out করতে হয়।

17. Hooked: How to Build Habit-Forming Products

একজন প্রোডাক্ট ম্যানেজার এর স্বপ্ন হচ্ছে কিভাবে ইউজারকে তাদের app এ কন্টিনিউয়াসলি এনগেজ করে রাখবে। এই অসাধারণ বইতে ডেসক্রাইব করা Hook Model ব্যাখ্যা করেছে কিভাবে একটা ভাইরাল লুপ তৈরি করা যায়। আপনার কোম্পানি যদি Next Super App তৈরি করার চেষ্টা করে থাকে, এই বইটা আপনার পড়া দরকার।

18. Likable Social Media: How to Delight Your Customers, Create an Irresistible Brand, and Be Generally Amazing on Facebook (& Other Social Networks)

সব ভারী ভারী বই না দিয়ে fcommerce এ যারা ফোকাস করছেন তাদের জন্য এই বইটা দিলাম। এখানে আপনি অসংখ্য উদাহরণ পাবেন কিভাবে আপনার পটেনশিয়াল কাস্টোমারকে social media তে engage করবেন। তবে শুধু ছোট বা মিডিয়াম কোম্পানিই না, বড় কোম্পানিগুলোরও এ নিয়ে শেখার অনেক কিছু আছে (কোরবানী ঈদে একটা নামকরা কোম্পানি কোরবানীর গরূ ঠিকমতো ডেলিভারি দিতে চরমভাবে ব্যর্থ হবার পর খুব বাজে ভাবে কাস্টোমার রিভিউ এর রেস্পন্স করছিল, I wish they read this book)!

19. Influence: The Psychology of Persuasion

মার্কেটিং মানে শুধু মাত্র একটা ক্যাম্পেইন চালানো না, কিছু কপি লেখা আর ভিজুয়াল এলিমেন্ট তৈরি করা না। আজকাল কিছু কোম্পানি দেখলাম ট্রেন্ডি যাই পাচ্ছে তাই নিয়ে আজেবাজে কিছু একটা সস্তা কন্টেন্ট বানিয়ে দিচ্ছে (উদাহরণ – একটা কনডম ব্র্যান্ড যদি ‘বাবু খাইছো’ থিম নিয়ে কন্টেন্ট বানায় তাহলে ব্যপারটা কেমন লাগে?)

Marketing is all about perception, a battle of the mind. 

আপনার মার্কেটিং ইনিশিয়েটিভ এর secret sauce হচ্ছে আপনার TG (Target Group) এর মাউন্ডে  appropriate মেসেজ নিয়ে ঢুকতে পারা।  Dr. Robert Cialdini এই ফিল্ডের একজন বিখ্যাত রিসার্চার, এবং Influence পারসুয়েসিভ হিউম্যান সাইকোলজি এর উপর লেখা একটা ক্লাসিক বই।

20. The Tipping Point: How Little Things Can Make a Big Difference

টপ ২০টা মার্কেটিং বই এর নাম লিখে ফেলবো আর তার মধ্যে বেস্ট সেলিং লেখক Malcolm Gladwell এর একটা বই এর নাম আসবে না এটা তো হয় না! Tipping point বইটা আপনাকে শেখাবে virality এর পিছনের সায়েন্সটাকে ডায়াগনাইসিস করতে এবং breakthrough মার্কেটিং আইডিয়া জেনারেট করতে।

Bonus Read: Steal Like an Artist: 10 Things Nobody Told You About Being Creative

There are good books. And then there are great books! কিছু বই আপনাকে প্র্যাকটিকাল টুলস এবং স্ট্র্যাটেজি শেখাবে। আর কিছু কিছু বই শেখাবে PHILOSOPHY! যে ফিলোসফি আপনাকে এবং আপনার কোম্পানিকে হাজার মাইল এগিয়ে নিয়ে যাবে অন্যান্যদের তুলনায়। 20 টা বই এর নাম দেব বলেছিলাম, এই বইটার নাম আপনাকে বোনাস হিসেবে দিলাম। The pearls of wisdom spread throughout every page of this book will help you to become a better version of yourself!

Action Point

বই এর নাম তো দিলাম, এরপর যে প্রশ্নটা স্বাভাবিক ভাবেই আসবে সেটা হচ্ছে এগুলো পাবেন কোথায়! প্রথমত, অনলাইনে ভাল করে খুজলে ম্যাক্সিমাম বইই পাবেন। তারপর Rokomari তে খুজে দেখতে পারেন হার্ডকপি আছে এর অনেকগুলোরই। বন্ধু বান্ধবের কাছে থেকেও ধার নিতে পারেন (কোন বিখ্যাত মনীষী নাকি বলেছিলেন বই চুরি করলে পড়লে পাপ হয় না)! তবে আসল কথা হলো যেভাবে পারেন কালেক্ট করে নিবেন যেটা লাগে…it will be really really worthy!

আরো পড়ুনঃ Top 21 Business Books to Read in 2021!

অনেক বেশি এক্সপেকটেশন নিয়েই যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০২০ সালের…কিন্তু হঠাৎ করেই সব কিছু কেমন বদলে গেল! কিন্তু এখন আমাদের সময় আবার ঘুরে দাঁড়াবার, নিউ নরমাল কে বরণ করে সবকিছু আবারো গুছিয়ে নেবার।

একটা ভাল বই লেখকের কয়েক বছরের রিসার্চ এবং এক্সপেরিয়েন্স এর ফসল – আর এজন্য নিজেদের নলেজ এবং স্কিল ডেভেলপ করার জন্য ভাল বই পড়ার কোন বিকল্প নেই।

তাই আমি আমার পড়া বইগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পছন্দের এবং ইফেক্টিভ বইগুলোর নাম এবং শর্ট রিভিউ আপনার সাথে শেয়ার করবো বলে ঠিক করেছি। আজকে 20 টি মার্কেটিং বই এর রিভিউ দিয়ে শুরু করছি – এতে আপনি সহজেই বেছে নিতে পারবেন যে কোনটি আপনার প্রথমে পড়া দরকার।

নিচের বইগুলো আপনার মার্কেটিং স্ট্রাটেজিকে ইম্প্রুভ করতে অনেক অনেক হেল্প করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

1. Ogilvy on Advertising

David Ogilvy কে আমরা সবাই একনামে চিনি মার্কেটিং এর উইজার্ড নামে। নিজের লাইফের টাইমলেস লেসনগুলো তিনি এই ক্লাসিক বইটিতে শেয়ার করেছেন। প্রত্যেক মার্কেটিং স্টুডেন্ড এবং প্রফেশনালস ‘ফাদার অফ এডভার্টাইজিং’ এর প্রিন্সিপল গুলো শিখে উপকৃৎ হবেন। This is a must read!

2. Hacking Growth: How Today’s Fastest-Growing Companies Drive Breakout Success

এই বইটা গ্রোথ হ্যাকিং এর আল্টিমেট প্লেবুক বলতে পারেন – লিখেছেন Sean Ellis, যিনি কিনা প্রথম ‘Growth Hacking’ টার্মটাকে coin করেছিলেন।

মডার্ণ ডে মার্কেটার দের জন্য এটা একটা মাস্ট রিড – স্পেশালি ডিজিটাল মার্কেটার, বিজনেস স্ট্র্যাটেজিস্ট, প্রোডাক্ট ম্যানেজার এবং entrepreneur. আমি নিজে ইন ডেপথ মার্কেটিং এবং বিজনেস স্ট্রাটেজি এর প্রতি অবসেসড হবার কারণে আমার লিস্টের দুই নাম্বারে এটা চলে এসেছে।

এই বইটিতে লেখক Dropbox, Airbnb, Netflix, Uber, Facebook, Amazon ইত্যাদি কোম্পানিগুলোর গ্রোথ হ্যাকিং ট্যাকটিস এবং এক্সাম্পল আলোচনা করেছেন। আপনার কোম্পানির গ্রোথ হ্যাকিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে চাইলে এখনি পড়তে শুরু করে দিন।

3. Building a StoryBrand: Clarify Your Message So Customers Will Listen

স্টোরিটেলিং এর সাতটি ইউনিভার্সাল এলিমেন্ট শিখতে চান? জানতে চান কিভাবে কাস্টোমারের সাথে আপনার কমিউনিকেশন ড্র্যামাটিক্যালি ইম্প্রুভ করা যায়?

এই বইটা পড়ার পর থেকে আপনি প্রতিটা ব্লকবাস্টার মুভির স্টোরি এনালাইসিস করা শিখে যাবেন, যে কোন ভাল গল্প বইয়ের ব্যবচ্ছেদ করা পদ্ধতি জেনে যাবেন, যে কোন সাকসেসফুল এড এর সাইকোলোজিক্যাল ফ্যাক্টর এনালাইসিস করতে শিখবেন।

এই বইতে শেয়ার করা আইডিয়াগুলো আপনার মার্কেটিং কমিউনিকেশন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, এবং সেই সাথে আপনাকেও একজন বেটার স্টোরিটেলার হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

4. Launch: An Internet Millionaire’s Secret Formula To Sell Almost Anything Online, Build A Business You Love, And Live The Life Of Your Dreams

কখনো চিন্তা করেছেন স্টিভ জবস কেন সেই আইকনিক প্রোডাক্ট unveiling ইভেন্টগুলো অর্গানাইজ করতেন? হলিউডের মুভিগুলো কিভাবে ইভেন মুভি রিলিজ করার আগেই প্রচুর buzz সৃষ্টি করে?

Jeff Walker এই অসাধারণ বইটিতে নতুন প্রোডাক্ট লঞ্চ করার underground process টা ব্যাখা করছেন, যেটা ব্যবহার করে আমরা নিজেরাও রেকর্ড ব্রেকিং সাকসেস পেয়েছি বিভিন্ন ক্ষেত্রে।

5. DotCom Secrets: The Underground Playbook for Growing Your Company Online

এই বইটা আমার অন্যতম ফেভারিট! আমার মতে এটা হচ্ছে once in lifetime টাইপ বই যেটা আপনার বিজনেসটাই টোটালি বদলে দিতে পারে।

সাধারণত যে কোন কিছুর সাথে ‘secret’ থাকলে আমি সেটাকে একটু সন্দেহের চোখে দেখি, কারণ বেশিরভাগ সিক্রেট নামক জিনিসই দেখা যায় স্ক্যাম কিংবা ক্লিকবেইট। কিন্তু Russel Brunson আসলেই একজন জিনিয়াস, আমি প্রতিদিন শিখছি তার কাছে থেকে। এমনকি রিসেন্টলি একটা একমাস ব্যাপী লাইভ সেশনেও আমি enrolled করেছিলাম।

Dotcom Secret বইটাতে আপনি সেলস ফানেল কনসেপ্ট অনেক গভীরে যেয়ে শিখতে পারবেন। ডিজিটাল চ্যানেলে সেলস মার্কেটিং এ যারা জড়িত আছেন তাদের জন্য মাস্ট রিড!

6. The 22 Immutable Laws of Marketing

ন্যাচারের যদি ‘ল’ থাকতে পারে – মার্কেটিং এর নয় কেন? Al Ries এবং Jack Trout – বিশ্বখ্যাত দুই মার্কেটিং কনসালট্যান্ট এই বইটিতে মার্কেটিং এর ২২ টি ইনোভেটিভ ‘ল’ অফার করেছেন। এই বইটি্তে আলোচিত কিছু পয়েন্ট নিয়ে যদিও কন্ট্রোভার্সি আছে, তবুও…Violate them at your own risk!

7. Jab, Jab, Jab, Right Hook: How to Tell Your Story in a Noisy Social World

বইএর নামটাই তো আপনাকে hook করার জন্য যথেষ্ট!

Gary Vaynerchuk সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর দুনিয়াতে একজন রিয়েল স্টার। এই বইটা আমি আসলে অনেক আগে পড়েছিলাম। যারা ডিজিটাল মার্কেটিং এর দুনিয়াতে নতুন, তাদেরকে আমি সাজেস্ট করবো Growth Hacking বা Dotcom Secret এর মতো ডীপ টপিক এ না ঢুকে আগে এই ধরণের বইগুলো পড়তে।

8. The Copywriter’s Handbook, Third Edition: A Step-By-Step Guide to Writing Copy That Sells

এই বইটা যারা কপি লেখে, এপ্রুভ করে, মার্কেটার, কপিরাইটার, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, ফ্রি-ল্যান্স রাইটার, ব্র্যান্ড ম্যানেজার, এন্ট্রাপ্রেনার সবার জন্যই। বইটিতে আপনি ডজন খানেক কপিরাইটিং টেকনিক পাবেন যেটার মাধ্যমে আপনি বেটার এড এবং কমার্সিয়াল লিখতে পারবেন যা কিনা অনেক বেশি persuasive হবে।

9. Ca$hvertising: How to Use More Than 100 Secrets of Ad-Agency Psychology to Make Big Money Selling Anything to Anyone

এই বইটি হাতে নিলে একটা ইউনিক এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য প্রস্তুত হন, যেখান লেখক Drew Whitman আপনাকে স্পেসিফিক সাইকোলোজিকাল টেকনিক শেখাবে যা বিশ্বের টপ কপিরাইটাররা ব্যবহার করে। এই বই থেকে অন্তত ডজন খানেক ওয়েল গার্ডেড সিক্রেট শিখতে পারবেন লেখকের কাছ থেকে।

এডভার্টাইজিং এর দুনিয়াতে এটা আমার দেখা অন্যতম পাওয়ারফুল একটা বই, প্রতিটা পেইজই মহামূল্যবান।

10. E-commerce Get It Right! Step by Step Ecommerce Guide for Selling & Marketing Products Online.

আমার মনে আছে 2013 তে আমি এই বইটা কালেক্ট করার জন্য দিনের পর দিন চেষ্টা করেছি। সেই সময়ে বাংলাদেশে এখনকার মতো ইকমার্সের জোয়ার আসেনি। ClickBD মৃতপ্রায়, Bikroy মাত্র যাত্রা শুরু করেছে, Pathao কিংবা eCourier এর মতো ডেলিভারি কোম্পানির তখনও জন্ম হয়নি। Delivering Happiness এ Zappos এর সম্পর্কে পড়ে তখন ইকমার্স সম্পর্কে শেখার প্রবল আগ্রহে এই বইটি হাতে নেয়া।

গত কয়েকবছরে অনেক কিছুই বদলে গেছে…এখন ইকমার্স সাইট তৈরি করা, বিজনেস শুরু করা অতটা কঠিন কিছু না। কিন্তু এই বইটা সবসময়ই আমার কাছে প্রিয় একটা বই হয়ে থাকবে…এবং এর ভিতরে এখনো কিছু ভ্যালুয়েবল লার্নিং আপনি পাবেন।

Action Point

উপরে উল্লেখিত কোনটা পছন্দ হলে এবং না পড়া থাকলে সংগ্রহ করে পড়া শুরু করে দিতে পারেন।

Rokomari তে খুজে দেখতে পারেন হার্ডকপি পাওয়া যায় কিনা। আমি নিজে সাধারণত আমার Kindle এ সফটকপি পড়তেই বেশি পছন্দ করি, কিন্তু আমার বড় ভাইগ্না প্যান্ডেমিক এর শুরুতে তিন গোয়েন্দা পড়ার জন্য সেটা নিয়ে যাবার কারণে মোবাইলেই বই পড়ি। সফট কপি পড়তে চাইলে PDF এর পাশাপাশি Epub বা Mobi ভার্সন ট্রাই করতে পারেন বেটার এক্সপেরিয়েন্স এর জন্য।

পরবর্তী পর্বঃ Top 20 Marketing Books You Can Read in 2020 (part 2)!