‘ইভ্যালিতে হচ্ছেটা কি?’ – বর্তমানে চায়ের কাপ থেকে শুরু করে কীবোর্ডে তুফান উঠানো এক টপিক; একদিকে এই গুণগান তো আরেকদিকে অভিযোগের ডালি, একপাশে আর্গুমেন্ট তো আরেকপাশে ক্ষুরধার কাউন্টার!

আমরা যারা ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রির জন্মলগ্ন থেকে এর সাথে ঘনিষ্টভাবে জড়িত এবং রিসেন্ট ট্রেন্ড গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করার চেষ্টা করছি, তারা অনায়াসেই ধারণা করতে পারছি social distancing এর প্রভাবে ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে নিঃসন্দেহে একটা paradigm shift আসতে যাচ্ছে।

COVID-19 প্যান্ডেমিক হানা দেবার পূর্বে The Daily Star এর প্রতিবেদন অনুযায়ী 2020 এ বাংলাদেশে ইকমার্স মার্কেট সাইজ 1.6 Billion Dollars (প্রায় চৌদ্দ হাজার কোটি টাকা), এবং 2023 এ যা ডাবল হয়ে 3 Billion Dollar ছাড়াতে পারে।

সুতরাং এখন উপযুক্ত সময় শুধুমাত্র অনুমানের ভিত্তিতে রহস্যের জালে আটকে না থেকে হালের সেনসেশন ইভ্যালির মতো disruptive, super-fast moving এবং controversial কোম্পানির স্ট্র্যাটেজি ও প্র্যাক্টিস এর in-depth এনালাইসিস করা, ভুলগুলো পিনপয়েন্ট করে constructive ওয়েতে শুধরে দেয়া এবং সাকসেস ফ্যাক্টরগুলো অন্যান্য বিজনেসেও replicate করা।

Blue Ocean Strategy

The Financial Express এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে এই মূহুর্তে  2000+ বড় থেকে মাঝারি ইকমার্স সাইট এবং 50000+ fcommerce বিজনেস রয়েছে।

এন্ট্রি ব্যারিয়ার খুব কম হওয়ার কারণে প্রায় সেইম প্রোডাক্ট এবং অফার নিয়ে সবাই একই কাস্টোমারের কাছে যাবার কারণে ফিক্সড মার্কেট স্পেসে এ একটা দারূণ অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।

মার্কেটের সমুদ্রে হাবুডুবু খেতে খেতে সবাই cutthroat competiton এর মাধ্যমে মার্কেট শেয়ার বাড়িয়ে নেবার চেষ্টা করতে থাকে, যার ফলে সমুদ্র রক্তে লাল হয়ে যায় (রূপক অর্থে)।

এটাকে আমরা বিজনেসের টার্মে বলে থাকি – Red Ocean.

অন্যদিকে Blue Ocean হচ্ছে unknown and uncontested মার্কেট প্লেস, যেটাকে এক্সপ্লোর করার অবারিত সম্ভাবনা এবং কম্পিটিশন কে পুরোপুরি irrelevant করে দিয়ে বিজনেস গ্রোথ এর এক সূবর্ণ সুযোগ।

Evaly – A Partial (Accidental) Blue Ocean Strategy?

জন্ম নেবার মাত্র দেড় বছরের মধ্যে বিপুল সাড়া তৈরি করা, unconventional অফারে ইর্ষনীয় সেলস রেভিনিউ জেনারেশন, প্রতিদ্বন্ধীদেরকে কোণঠাসা করা এবং একের পর এক বিতর্কের জন্ম দেয়া ইভ্যালির বিজনেস স্ট্র্যাটেজি এনালাইসিস করতে গিয়ে আমি Blue Ocean Strategy এর সাথে কিছুটা সামঞ্জস্য লক্ষ্য করেছি।

যদিও blue ocean টার্মটা অনেকের কাছেই পরিচিত, এর মূল essence বুঝতে কিন্তু অনেক business strategiet ভুল করে থাকেন।

অনেকেই blue ocean বলতে মনে করেন একবারেই নতুন disruptive কোন প্রোডাক্ট নিয়ে আসা বা কোন একটা innovative উপায়ে ফিক্সড মার্কেটেই নিজের শেয়ার অনেক বাড়িয়ে নেয়া। এটা অনেকাংশেই একটা misleading concept.

Blue Ocean স্ট্রাটেজি এর ভিত্তি – Value Innovation

Red ocean স্ট্রাটেজিতে সবার উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে কম্পিটিটর এর কাছ থেকে কিছু মার্কেট শেয়ার ছিনিয়ে নেয়া যায়।

কিন্তু blue ocean strategy এর প্রধান ফোকাস হচ্ছে কাস্টোমারের জন্য ইনোভেটিভ ওয়েতে অত্যন্ত ভ্যালুয়েবল কিছু অফার করা যেটা আর কেউ করছে না। একে বলা হয় value innovation.

ইভ্যালির পূর্বে কনভেনশনাল চিন্তা ছিল এভারেজ কাস্টোমার 1k-3k টাকার বেশি অনলাইন শপিং করবে না। আবার ডিসকাউন্টের নামে ব্লাফ দিয়ে অনেক নামকরা (!) ইকমার্স তাদের সাইটে রুপকথার ঝুলি upto 70% Discount ঝুলিয়ে রেখেছিল।

যেখানে common belief টাই ছিল যে অনলাইনে কেউ দামী জিনিস কিনতে চায় না, সেখানে evaly লাখ লাখ টাকার প্রোডাক্টে বিশাল ডিসকাউন্ট অফার নিয়ে আসলো, যেটা মোটেই click bait বা লোক দেখানো নয়।

আমি Future Startup এ বছরখানেক আগে ইভ্যালি এর CEO রাসেল আহমেদ এর সাক্ষাতকারে পড়েছিলাম যে তাদের কাস্টোমারদের Average Busket Size 20K টাকা।

উপরে যেমন বলেছি, Blue Ocean Strategy framework ব্যবহার করে এক্সিসটিং প্রোডাক্ট এবং অফারকে নতুন ভাবে সাজিয়ে Value+Innovation এর মাধ্যমে ডিমান্ড ক্রিয়েট করে মার্কেটের বাউন্ডারি টাই বাড়িয়ে দেয়া সম্ভব।

চলুন এই Case Study তে আমরা সেই ফ্রেইমওয়ার্ক দিয়ে মেথডিক্যালি ইভ্যালির বিজনেস স্ট্রাটেজি Reverse Engineer করে বোঝার চেষ্টা করি।

The Curious Case of Evaly!

[Get it FREE]

১। সম্পূর্ণ নতুন কোন ভ্যালু তৈরি করা

ইভ্যালি যাত্রা শুরু করেছিল কাস্টোমারকে তার শখের একটা হাই ভ্যালু প্রোডাক্ট irresistable ডিসকাউন্টে অফার করার মাধ্যমে। এখানে কাস্টোমার পাচ্ছে রিয়েল Value, ইভ্যালী যোগ করছে অত্যন্ত লিমিটেড টাইম অফারের innovation।

লক্ষ্য করূন এখানে যদি কম দামী প্রোডাক্টের উপর বিশাল ডিসকাউন্ট দেবার চেষ্টা করতো তাহলে কিন্তু সেটাকে আমরা value innovation বলতাম না, কারণ সেটা তো অনেকেই করছে।

এভাবে হিউজ ডিসকাউন্ট, সাপ্লাই crisis, gamification সবকিছু মিলিয়ে একটা Ripple Effect তৈরি হচ্ছে।

এই পুরো জিনিসটাই সম্ভব হচ্ছে Evaly প্রচুর ক্যাশ বার্ন করে বিশাল পরিমান ডিসকাউন্ট দিতে পারছে দেখে, যা অন্যান্য অনেক ইকমার্সেরই সামর্থ্যের বাইরে। এই ইনভেস্টমেন্ট করার মতো ক্যাপাসিটি কোথা থেকে আসছে সেটা একটা ডিফরেন্ট কিন্তু অত্যন্ত ইম্পর্টান্ট টপিক, তাই পরবর্তী পর্বে এ বিষয়ে আলোচনা করবো।

২। প্রচলিত স্ট্যান্ডার্ড থেকে কিছু ফ্যাক্টর সম্পুর্ণ Eliminate করে ফেলা

বাংলাদেশে কাস্টোমারকে অনলাইন শপিং মুখি করতে প্রায় সবাই Cash on Delivery (COD) অফার করে। এটা কাস্টোমার granted বলেই ধরে নিয়েছিল, যদিও বিজনেসগুলোর জন্য এটা খুবই হার্মফুল – অপারেশন্স, ইনভেস্টমেন্ট, ফেইক অর্ডার সব দিক থেকেই। (ইনফ্যাক্ট উন্নত দেশেও কিন্তু COD এর প্রচলন নেই)

ইভ্যালি শুরু থেকেই এই প্রচলিত প্র্যাকটিস এর পুরোপুরি উল্টো পথে হাঁটে। অতিরিক্ত ডিসকাউন্ট অথবা ক্যাশব্যাকের আশায় উৎসাহী কাস্টোমার আগেই পেমেন্ট করে দেয় এখানে।

Value Innovation এর মাধ্যমে হিউজ ডিমান্ড তৈরি হবার জন্য প্রচলিত বিশ্বাসের বাইরে গিয়েও ইভ্যালি এই এডভান্টেজ টা নিতে পারে।

আর এর ফলে 24 ঘন্টার একটা ‘সাইক্লোন’ টাইপ অফার ক্যাম্পেইন চালানোর সাথে সাথে এভেইলএবল প্রোডাক্টের চেয়েও বেশি অর্ডার পরে, সাথে ফুল পেমেন্ট। এই এডভান্স এবং এক্সট্রা ক্যাশটা ইভ্যালির বিজনেসের Fuel হিসেবে কাজ করছে।

৩। কিছু ফ্যাক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ডের নিচে নামিয়ে ফেলা (Reduce Below Standard)

ইভ্যালির বিপক্ষে অন্যতম অভিযোগ – Delivery Delay কে তারা অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সেই সাথে ক্ষেত্র বিশেষে চরম unprofessional কাস্টোমার সার্ভিস, আর প্রাপ্য প্রোডাক্ট উদ্ধার করতে শত শত গ্রাহকের চরম ভোগান্তি তো আছেই।

এর ফলে কোম্পানি যদিও কিছু unfair cash and time advantage লাভ করছে, যা তারা খুবই কার্যকর ভাবে বিজনেস গ্রোথে কাজে লাগাচ্ছে।

কাস্টোমার হয়তো দামী প্রোডাক্ট ডিস্কাউন্টে পাবার আশায় আপাতত বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে সহ্য করছে, কিন্তু লং রানে এটা brand building এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

A BRAND IS A PROMISE.

নিজেকে স্বঘোষিত ‘দেশ সেরা ইকমার্স’ দাবী করে ‘এইত্তেরিকা-ঐত্তেরিকা’ বলে নাচানাচি করলেই কিন্তু ব্র্যান্ড তৈরি হয়ে যাবে না। ব্র্যান্ড অনেকাংশেই কাস্টোমার এর perceived একটা value।

Brand value একবার নষ্ট হলে মিলিয়ন ডলার খরচ করেও উদ্ধার করা ডিফিকাল্ট (উদাহরণ হিসেবে গুগল করুন “united breaks guitars”!)

ইকমার্সে সাকসেসফুল কোম্পানিগুলো যেমন Amazon বা Zappos কিন্তু একদম প্রথম থেকে বেস্ট কাস্টোমার এক্সপেরিয়েন্স দেবার দিকে ছিল ruthlessly obsessed।

বিজনেসের শুরুতে কিছু বাজে প্র্যাক্টিস কোম্পানির ইন্টারনাল culture building এর জন্যও খুবই খারাপ।

REMEMBER THAT – CULTURE EATS STRATEGY AT BREAKFAST!

ইভ্যালির ম্যানেজমেন্টকেও তাই এখনই অত্যন্ত সতর্ক হতে হবে এবং এর থেকে পরিত্রাণের উপায় যে কোন ভাবেই হোক খুজে বের করতে হবে।

৪। কিছু ফ্যাক্টর ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ডের উপরে উঠানো (Raise above Standard)

যে কোন সাকসেসফুল বিজনেস মডেলের জন্য customer retention অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন, কিন্তু  প্রায় সব ইকমার্সই গ্রাহককে ফিরিয়ে আনতে এ হিমশিম খায়।

উপরে বর্ণিত অন্যান্য ফ্যাক্টগুলোর প্রভাবে evaly এখানে বাজিমাত করতে যাচ্ছে। ইভ্যালির রুলস অনুযায়ী কাস্টোমার কোন অফারের সময় পুরো টাকা এডভান্স পে করছে, তারপর ক্যাশব্যাক পাচ্ছে evaly wallet এ। এরপর কাস্টোমার ন্যাচারালই চেষ্টা করছে অন্য রেগুলার প্রোডাক্টগুলো আর কোথাও না গিয়ে ইভালি থেকেই কিনে জমা টাকাটার সদ্ব্যবহার করতে।

এর ফলে customer retention rate অনেক বেড়ে যাচ্ছে ইন্ডাস্ট্রি স্ট্যান্ডার্ডের তুলনায়, এবং রিপিট পারচেজের কারণে customer lifetime value ও বাড়ছে।

উপরের যে কোন একটা ফ্যাক্টর আলাদাভাবে দেখলে কিন্তু খুব একটা মিনিংফুল হবে না। বাট সব কিছু একসাথে syncronized ওয়েতে মিলেমিশে ইভ্যালিকে একটা Blue Ocean তৈরিতে দারুন প্রভাব রাখছে।

Blue Ocean, Then What?

বাংলাদেশে ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রি সবে আঁতুড়ঘর থেকে বের হয়ে হাঁটি হাঁটি পা পা করছে। পুরোপুরি ম্যাচিউর হবার আগেই Coronacrisis এর কারণে এই অমিত সম্ভাবনাময় ইন্ডাস্ট্রির গুরুত্ব এখন অনেক বেশি।

তাই আমাদের সবাইকেই progressively এগিয়ে আসতে হবে এই ইন্ডাস্ট্রিতে জড়িত সবাইকেই সাপোর্ট দিয়ে, ভুলগুলোকে শুধরে দিয়ে, ভাল কাজগুলোর প্রশংসা করে ওভারঅল ইকোনমিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে।

উপরে আমরা খুব ক্রিটিকালি স্ট্রাটেজিক দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করলাম কিভাবে evaly প্রাথমিক পর্যায়ে (accidentally?) একটা blue ocean তৈরি করতে পেরেছে। নবীন কোম্পানি হিসেবে যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবীদার।

কিন্তু বিলিয়ন ডলারের সম্পুরক প্রশ্ন – এভাবে ডিসকাউন্ট দিয়ে ইভ্যালি কি একটি sustainable এবং profitable বিজনেস মডেল দাঁড় করাতে পারবে??

নেক্সট Case Study তে আমরা খুব ইন্টারেস্টিং এবং ভিন্ন একটা strategic angle থেকে এটা নিয়ে ডিটেইল ডিসকাসন করবো।

[পরের পর্বঃ The Curious Case of Evaly Part 2]

Get the Case Study as PDF and study later

Get Your

FREE Copy Now!

মিথলজিতে ইউনিকর্ণ অত্যন্ত রহস্যময় এবং বিখ্যাত একটী প্রানী – যেটি দেখতে অনেকটা শুভ্র অশ্ব বা  ঘোড়ার মতো, কিন্তু মাথায় একটি খাড়া শিং! 

সৌন্দর্য্য, শুদ্ধতা, তেজ, হিলিং পাওতার, বিদ্যুৎ বেগ এবং জাদুকরী ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে ইউনিকর্ণকে দেখা হয়েছে সুপ্রাচীন কাল থেকে। 

বিজনেস ওয়ার্ল্ডে আমরা Unicorn টার্মটি ব্যবহার করি ১ Billion ডলার ($1B+) বা 8500 কোটি টাকার উপর ভ্যালুয়েশন এর প্রাইভেট লিমিটেড স্টার্টআপ কোম্পানী বোঝাতে।

আমার জানামতে পৃথিবীতে এই মূহুর্তে 472 টি ইউনিকর্ণ কোম্পানি রয়েছে (May, 2020), যাদের টোটাল ভ্যালুয়েশন ~ $1,382B. এদের মধ্যে Airbnb, SpaceX, Stripe, Go-Jek, Ola, Quora, Reddit, Asana, Coursera ইত্যাদি আমাদের কাছে বেশ পরিচিত।

ফাউন্ডার থেকে শুরু করে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট, এমপ্লয়ী সহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডার সবার কাছেই পরম আরাধ্য – ইউনিকর্ণ কোম্পানি। বিজনেসের শুরু থেকেই অনেক ফাউন্ডারের স্বপ্ন থাকে disruptive innovation এর মাধ্যমে একটা ইউনিকর্ণে পরিণত হওয়া।

শুধুমাত্র স্টার্টআপ না, COVID-19 ক্রাইসিস এর আগে Unicorn Strategy অনেক অনেক কোম্পানিই ফলো করতে চেষ্টা করতো। অর্থাৎ হিউজ পরিমানে cash burn করে মার্কেট শেয়ার বাড়িয়ে নেয়া, প্রচুর ডিসকাউন্ট দিয়ে স্বল্পতম সময়ে বিপুল সংখ্যক কাস্টোমার acquisition করা, একটার পর একটা ইনোভেটিভ ফিচার রিলিজ করা, ড্রামাটিক মার্কেটিং স্ট্যান্স এর মাধ্যমে চারিদিকে আলোড়ন সৃষ্টি করা, month-by-month গ্রোথ কার্ভটাকে যে কোন মূল্যেই steep রাখার আপ্রাণ চেষ্টা ইত্যাদি।

এবং মার্কেটও এতদিন এই ইউনিকর্ণ স্ট্রাটেজিতে বেশ পজিটিভ রেসপন্স করে আসছিল। ইনভেস্টররা চাইতো 100x থেকে 1000x ROI, এমপ্লয়ীরা চাইতো lucrative বেনিফিট প্যাকেজ, কাস্টোমাররা চাইতো shiny নতুন ফিচার, গাদা গাদা ডিসকাউন্ট আর মাথা নষ্ট সব অফার…

Who doesn’t love a Unicorn??

অপরপক্ষে Camel বা উট কখনোই ইউনিকর্নের মতো অতটা charming ছিল না।

প্রাণী উটকে একনামে আমরা সবাই চিনি মরুভূমির জাহাজ হিসেবে। বালিতে ধীরে ধীরে চলাচলের উপযোগী লম্বা লম্বা পা, অস্বাভিক ভার বহনের ক্ষমতা, দিনের পর দিন পানি না খেয়ে চলতে পারা, এবং প্রতিকূল পরিবেশে মানিয়ে নেবার অবিশ্বাস্য সহ্যশক্তি রয়েছে উটের।

Maximize your ad result and grow your business EXPONENTIALLY.

Get Your

FREE Copy Now!

বিজনেস টার্মে Camel কোম্পানি বলতে আমরা বুঝি সেইসব কোম্পানি যেগুলো slow and steady, তেমন কোন ড্রামাটিক গ্রোথ স্ট্রাটেজি নেই, ধীরে সুস্থে প্রতিকূলতা পেরিয়ে অবিরাম এগিয়ে চলছে তো চলছেই। 

Sounds Kind of boring compared to Unicorn, right? 

But not anymore during this global crisis…

এই ইকোনোমিক ডাউনটাইমের সময় ফাউন্ডার, ইনভেস্টর, মার্কেটার, ব্র্যান্ড প্রাকটিশনার সহ সকল স্টকহোল্ডারকে Camel Company হবার চেষ্টা করতে হবে।

এখন এমন একটা সিচুয়েশন যখন কোম্পানি গুলো কাস্টোমার খুজে পেতে ভয়াবহ স্ট্রাগল করছে। ইনভেস্টররা রিস্ক নিতে ভয় পাচ্ছে। অনেক কোম্পানি কস্ট কাটিং করে শুধুমাত্র বেসিক ফাংশনালিটি গুলো রানিং রাখছে – ইনোভেশন, গ্রোথ, স্ট্যান্টবাজির পিছনে টাকা-পয়সা খরচ করাতো অনেক দূরের কথা।

Camel Thinking এখন আপনাকে হেল্প করবে চিন্তা করতে কিভাবে একটা গেরিলা ক্যাম্পেইন করে বেশ কিছু ক্যাশ জেনারেট করা যায়। ঠিক যেমন একটা উট ৩ মিনিটে ২০০ লিটার পর্যন্ত পানি খেয়ে নিতে পারে।

তারপর কিভাবে সেই ক্যাশ রিজার্ভ করে এবং খুব কেয়ারফুলি খরচ করে এই ক্রাইসিস সিচুয়েশন আরো বেশিদিন সারভাইব করা যায়। যেভাবে উট নতুন করে পানি পান না করেও রিজার্ভ করা পানি দিয়ে টিকে থাকতে পারে তপ্ত মরূভুমিতে। যেভাবে এক টুকরো খাবার না পেলেও পিঠের কূজের ফ্যাট থেকে পুষ্টি সংগ্রহ করে দিনের পর দিন চলতে পারে।

আমার পরম শ্রদ্ধ্যেয় শিক্ষক Dr. Syed Ferhat Anwar (Director, IBA, DU) স্যার সেদিন লাইভে বলছিলেন কোম্পানি গুলো যেন এই মূহুর্তে কোনভাবেই মার্কেটিং ইফোর্ট পুরোপুরি বন্ধ না করে দেয়। 

খেয়াল করুন এখানেই কিন্তু unicorn এবং camel এর মধ্যে পার্থক্য। Camel company প্রতিকূল পরিস্থিতি এর মধ্যে দিয়েও অবিচলভাবে চলতে পারে। কারণ সেই কোম্পানিগুলো জানে কিভাবে innovative এবং minimalist way তে profitably চলতে হয়, কিভাবে দুর্যোগ শেষ হওয়া পর্যন্ত টিকে থেকে consistently সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়।

অন্যদিকে Unicorn strategies followers রা কিন্তু অধিকাংশ সময় ক্রাইসিস (স্পেশালি ক্যাশ ক্রাইসিস) এ পড়লে খেই হারিয়ে ফেলে – এবং অতঃপর Erratic বিহেভিয়ার শো করে। একদিকে employee downsize করে তো আরেকদিকে ইনভেস্টর এর পিছনে দিকভ্রান্তের মতো দৌড়াতে থাকে …. আর শেষ পর্যন্ত বিজনেস স্ট্রাটেজির ভুল বুঝতে পেরে অপ্রয়োজনীয় সার্ভিস গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়!

চোখ বন্ধ করলেই বেশ কিছু জ্বলজ্যান্ত টাটকা উদাহরণ আপনার চোখের সামনে ভেসে উঠবে, আমি এখানে নাম মেনশন করলাম না!!

যারা বিলিয়ন ডলার কোম্পানির স্বপ্ন দেখছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ সম্ভবত এই লেখাটা পড়ে অখুশি হবে। তাহলে কি ইউনিকর্ণ স্ট্রাটেজি ভুল?

উত্তর হচ্ছে – Of Course Not! 

যখন সব কিছু আবার স্বাভাবিক হবে – নিউ নরমাল যখন নরমাল হবে তখন আপনি আবার ইউনিকর্ণ স্ট্রাটেজি নেবার কথা চিন্তা করবেন।

But try to become a Camel during this Pandemic.

উটও কিন্তু জানে সুযোগের সদ্ব্যবহার কখন কিভাবে করতে হয়। সামনে একটা পানির সোর্স পেলে কিন্তু লিটার কি লিটার পানি খেয়ে নিতে ভুল করবে না। 

কিন্তু সে এটাও জানে Survival First.

Being a Camel Company is all about ADAPTING. 

It’s about knowing when to go slow, and when to run. When to spend money, when to reserve. Knowing how to not panic. Knowing how to balance.

সারভাইভাল ইন্সটিংক্ট এবং দূরদৃষ্টি একজন লিডারের জন্য সবসময়ই অন্যতম প্রধান পূজি, কি সুসময় কি দুঃসময়।

সুতরাং, একজন লিডার হিসেবে, এই ক্রাইসিস মোমেন্টে আপনার কোম্পানিকে রক্ষার উপযুক্ত মডেল হিসেবে বেছে নিন – Camel, Not Unicorn!

(করোনা ভাইরাস থেকে সারভাইব করার Business Pivoting নিয়ে আমার এই আর্টিকেলটিও পড়তে পারেনঃSurviving Corona-crisis: Top 10 Business Pivots For You)

Written By – Mark Anupom Mollick and Md. Sohan Haidear

আজ থেকে নয় বছর আগে লেখক Eric Ries যখন তার ‘Lean Startup’ বইটিতে ‘pivot’ টার্মটি ব্যবহার এবং জনপ্রিয় করতে চেয়েছিলেন, তখন কি তিনি ঘুণাক্ষরেও কল্পনা করতে পেরেছিলেন কি এক অকল্পনীয় দূর্যোগ নেমে আসতে যাচ্ছে এই পৃথিবীর বুকে??

মিডিয়া জায়ান্ট Bloomberg রিসেন্টলি প্রেডিকশন করেছে করোনাভাইরাস এর কারণ গ্লোবাল ইকোনোমি 2.7 Trillion Dollar এর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, আর সেই সাথে কয়েক মিলিয়ন বিজনেস bankrupt হতে পারে যদি এই প্যান্ডেমিক এক বছরের উপর থাকে। কিন্তু এর থেকে উত্তরণের পথ আমাদের খুজে বের করতেই হবে।

এর আগের লেখাতে ‘করোনাকালীন পাঁচটি টপ বিজনেস স্ট্রটেজি’ নিয়ে আমরা আলোচনা করেছিলাম, যার শেষ স্ট্রাটেজিতে ছিল ‘Pivot Your Business’। 

এখন আমরা ডিটেইলস আলোচনা করবো ১০ টি বিজনেস Pivot আইডিয়া নিয়ে, যার কোন একটা ব্যবহার করে হয়তো আপনি আপনার কোম্পানিকে এই মহা বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন।

“A Pivot is a Change in Strategy without a change in Vision” – Eric Ries

১। Zoom-in Pivot:

আপনার প্রোডাক্ট বা সার্ভিসের স্পেসিফিক কোন একটা ফিচার যখন ফুল প্রোডাক্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে, সেটিকে আমরা বলি Zoom in Pivot.

Bill Hewlett এবং Dave Packard যখন 1939 সালে একটি গাড়ির গ্যারেজে Hewlett-Packard প্রতিষ্ঠা করেন, তখন তারা ইলেকট্রনিক টেস্ট এবং মিজারমেন্ট ইকুইপমেন্ট তৈরি করতো। প্রায় তিরিশ বছর ধরে HP একটি অন্যতম সফল ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি হিসেবেই পরিচিত ছিল। এরপর সত্তর দশকের শুরুতে তারা পারসোনাল কম্পিউটার জগতে প্রবেশ করে, এবং নব্বই এর দশকে তারা তাদের টেস্টিং প্রোডাকশনকে আলাদা করে পুরোপুরি কম্পিউটার প্রোডাক্ট লাইনে ফোকাস করে এবং অভাবনীয় সাফল্য লাভ করে। 

আমরা দেখেছি অনেক বড় বড় কোম্পানি এই মূহুর্তে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, বুঝতে পারছে করোনা পরবর্তী দিনগুলোতে তাদের এক্সিসটিং বিজনেস মডেল হয়তো অনেকাংশেই কাজ করবে না, তবু ডিসিশন নিতে পারছে না পিভট করার। কিন্তু HP এর উদাহরণ থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিও সময়ের প্রয়োজনে তাদের প্রোডাক্ট বা সার্ভিসে স্ট্রাটেজিক চেইঞ্জ নিয়ে আসতে পারে। 

Zoom-In এর আরেকটি উদাহরণ হচ্ছে জেনারেশন – Z এর কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় Instagram. ইন্সটাগ্রাম শুরুতে Burbn নাম নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল, এবং সেই অ্যাপটিতে ফটো ফিচার এর পাশাপাশি গেমিং, মাফিয়া ওয়ার ইত্যাদি আরো ফিচার ছিল। কিন্তু ইন্সটাগ্রাম এর ফাউন্ডাররা বুঝতে পারে যে বেশি ফিচার এর কারণে ডিসট্রাকশন তৈরি হচ্ছে, তাই তার সব ফিচার ছুড়ে ফেলে দিয়ে শুধু Photo sharing ফিচার নিয়ে কাজ শুরু করে – এবং এভাবেই আজকের ইন্সটাগ্রাম জনপ্রিয়তা পায়।!

বর্তমান সিচুয়েশনে Ecommerce, IT এবং Tech ইন্ডাস্ট্রিতে যারা আছেন তারা এই লাইনে চিন্তা করতে পারেন। আপনার হয়তো অনেক প্রোডাক্ট রয়েছে, কিন্তু করোনা ক্রাইসিসের সময় এবং পরবর্তীতে এর মধ্যে কোনটির ডিমান্ড সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে সেটা এনালাইসিস করে আপনি জুম-ইন করতে পারেন। এর ফলে আপনার টিম আরো বেশি ফোকাস করতে পারবে এবং রিসোর্স রক্ষা করতে পারবেন।

২। Zoom-out Pivot

উপরের সিচুয়েশন এর ঠিক উল্টোটা হচ্ছে zoom-out পিভট। অনেক সময় দেখা যায় শুরুতে যেটি পূর্নাংগ প্রোডাক্ট ছিল, সেটি পরবর্তীতে আরো বড় কোন প্রোডাক্টের জাস্ট একটা ফিচার হিসেবে কাজ করছে।

জুম-আউট এর সবচেয়ে বিখ্যাত (এবং আমাদের পছন্দের) উদাহরণ হচ্ছে Facebook! 

Mark Zuckerberg যখন হার্ভাড এর ডর্মে তার পার্টনারদের সাথে 2003 সালে FaceMash ওয়েবসাইটটি লঞ্চ করে, তখন এটির উদ্দেশ্য ছিল স্টুডেন্টদেরকে ‘Hot or not’ গেইম খেলানো! শুরুতে ওয়েবসাইটি শুধু স্টুডেন্টদের বেসিক ইনফরমেশন এবং ছবি ফিচার করতে পারতো। কিন্তু তারপর এর জনপ্রিয়তা Harvard এর বাইরে ছড়াতে শুরু করে, আর জাকারবার্গ সিলিকন ভ্যালিতে এসে Facebook এ একের পর এক নতুন ফিচার এড করতে শুরু করে – And the next is, well, history!

কাস্টোমার ডিমান্ড অনেক কমে যাবার ফলে এই পিভটটি এখন অনেকেরই ব্যবহার করার সুযোগ কম, সেই সাথে ফিনান্সিয়াল ইস্যু তো আছেই। তারপরও বেশ কিছু সেক্টর এখন Zoom-out পিভট করার সুযোগ পাবে – যার মধ্যে Health Industry একটি। যেহেতু এখন স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজনীয়তা অনেক অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেসব কোম্পানি heath issue নিয়ে কাজ করে তাদের পক্ষে এখন সার্ভিসের রেইঞ্জ এবং ফিচার অনেক বেশি increse এবং diversify করার সুযোগ রয়েছে।

৩। Customer Segment Pivot

ধরুন আপনি একটি TG এর স্পেসিফিক পেইন পয়েন্ট বের করে তার সল্যুশন প্রোভাইড করছেন। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্বে আপনার অরিজিনাল TG’র আর এই সল্যুশনটা প্রয়োজন পরছে না। সুতরাং আপনি এই মূহুর্তে যেটা করতে পারেন সেটি হচ্ছে প্রোডাক্ট বা সার্ভিস ঠিক রেখে আপনার কাস্টোমার সেগমেন্ট চেইঞ্জ করতে পারেন।

আমাদের দেশে সার্ভিস মার্কেটপ্লেসে যেসব কোম্পানি রয়েছে (যেমন Sheba, Handymama, HelloTask) তারা এই মূহুর্তে অত্যন্ত জরূরী ভিত্তিতে ডিফারেন্ট কাস্টোমার সেগমেন্ট কে সার্ভিস প্রোভাইড করার কথা চিন্তা করতে পারে। যারা এর আগে বাসায় মেইড বা ক্লিনিং সার্ভিস দিচ্ছিল, তারা সামনের মাসগুলোতে অফিস-ব্যবসা খুললে কর্পোরেট কাস্টোমারদেরকে টার্গেট করতে পারে কারণ অফিসগুলো আরো বেশি করে তাদের ওয়ার্কপ্লেস ক্লিন রাখতে চাইবে।

৪। Customer Need Pivot

এই উদাহরণটি আগের লেখাগুলোতেও দিয়েছি, এবং আবারো দিচ্ছি। 

করোনার অর্থনৈতিক আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে Ride Sharing. আমাদের লোকাল স্টার্টআপ Pathao তাদের মেইন রেভিনিউ স্ট্রীম রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকার কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধপ্রায় সার্ভিস Pathao Tong কে আবার পুনরূজ্জীবিত করেছে এবং চেইন সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ এর সাথে পার্টনারশীপে গ্রোসারী আইটেমস ডেলিভারি করছে, যা এই মূহুর্তে কাস্টোমারদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আমাদের মাঝে অসংখ্য ক্ষুদ্র এবং মাঝারি ব্যবসায়ী (SME) রয়েছেন যারা ছোট পরিসরে কোন একটি দোকান দিয়ে বিজনেস পরিচালনা করছেন। এলাকায়-মহল্লায় অলিতে গলিতে যেসব দোকান রয়েছে তারা কিন্তু ফোনে অর্ডার নিয়ে প্রত্যেক কাস্টোমারের বাসায় প্রোডাক্ট পৌঁছে দিতে পারে। এর ফলে অনেকে একসাথে দোকানে ভিড় করা লাগছে না, উপরন্তু কাস্টোমার শুধু একজনের সাথে লেনদেন সেরে দ্রুত ডিসইনফেক্ট করে নিতে পারছেন নিজেকে।

Personal Care – যেমন সেলুন, বিউটি পার্লার ইত্যাদি বিজনেসও তাদের কাস্টোমারকে আরো বেশি কাস্টোমাইজড সার্ভিস, প্রয়োজনে সঠিক সতর্কতা অবলম্বন করে বাসায় গিয়ে সার্ভিস দেবার কথা চিন্তা করতে পারে সামনের মাসগুলোতে।

আমাদের মতে ‘Customer Need pivot’ প্রতিটা ইন্ডাস্ট্রি এবং প্রতিটি বিজনেসের জন্য অত্যন্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন একটি স্ট্রাজেটি এই মূহুর্তে। আপনার বিজনেস মডেল, SWOT analysis ইত্যাদি করে আপনি পরিকল্পনা করতে পারেন আপনার কাস্টোমারের সামনে কি নীড রয়েছে। এবং প্রয়োজনে Strategic Partnership এর মাধ্যমে আপনি কাস্টোমারের সেই প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করতে পারেন।

৫। Platform Pivot

২০০৫ সালে Paypal এর তিনজন সাবেক এমপ্লয়ী মিলে একটি অনলাইন ডেটিং ওয়েবসাইট খোলেন। তাদের প্রজেক্ট খুব একটা ভাল সাড়া পাচ্ছিলো না। হঠাৎ তারা আবিষ্কার করেন যে, আমেরিকার Super Bowl এর একটি আলোচিত ভিডিও অনেক খুঁজেও ইন্টারনেটে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তখন তারা তাদের ডেটিং ওয়েবসাইটকে চেইঞ্জ করে বিশ্বের প্রথম ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইটে রুপান্তর করেন। 

ওয়েবসাইটটির নাম? — YouTube!

Platform Pivot হচ্ছে যেখানে প্রথমে আপনি নিজে একটি সার্ভিস বা প্রোডাক্ট অফার করতে শুরু করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে আপনি নিজে আর সেই সার্ভিস অফার না করে একটি প্ল্যাটফর্মে রূপ নিলেন যেখানে অন্যরা সার্ভিস অফার করবে।

বাংলাদেশের প্রথম মডেস্ট লাইফস্টাইল মার্কেটপ্লেস Styline Collection যাত্রা শুরু করেছিল নিজস্ব কিছু হিজাব আইটেম নিয়ে। বছরখানেক তারা সম্পূর্ণ নিজেদের প্রোডাক্ট প্রমোট করে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা প্ল্যাটফর্ম পিভট করে এবং নিজেদের প্রোডাক্টের পাশাপাশি বিভিন্ন পার্টনারদের হিজাব এবং মডেস্ট ড্রেস তাদের প্লাটফর্মে নিয়ে আসে, এবং সেই সাথে হালাল এবং অর্গানিক কসমেটকিস, জুয়েলারী প্রোডাক্ট লাইন এড করে। এর ফলে করোনা ক্রাইসিসের এই ক্রিটিকাল মোমেন্টে তারা কাস্টোমারের কাছে মোস্ট রেলিভ্যান্ট প্রোডাক্ট নিয়ে গিয়ে বিজনেসের চাকা সচল রাখতে পারছে এবং এর উপর ভিত্তি করে করোনা-পরবর্তী স্ট্র্যাটেজি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে, করোনার কারণে যে ইন্ডাস্ট্রি মহা বিপর্যয়ের সম্মুখীন সেটা হচ্ছে Travel, Hospitality এবং Transporation Industry। এই ইন্ডাস্ট্রিতে যারা রয়েছেন তাদেরকে এই মূহুর্তে জরুরী ভিত্তিতে খুঁজে বের করতে হবে কিভাবে পিভট করা যায়, এবং তার মধ্যে একটি হতে পারে Platform পিভট। 

Airbnb এর মতো কোম্পানিও কিন্তু এখন বিভিন্ন ভাবে তাদের প্লাটফরমকে ডাইভার্সিফাই করার চেষ্টা করছে। আপনার যদি ট্রাভেল এজেন্সি থাকে, পূর্বের কানেকশন কাজে লাগিয়ে সামনের দিনগুলোতে export-import সাপ্লাই চেইন প্রসেস বিল্ড শুরু করাটা একটা আইডিয়া হতে পারে। 

(করোনাকালীন টপ পাঁচটি বিজনেস স্ট্রাটেজি নিয়ে এখানে লিখেছিলামঃ Top 5 Business Strategies You Need During Corona Crisis)

৬. Business Architecture Pivot

বিখ্যাত ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্ট এবং Crossing the Chasm বই এর লেখক জিওফ্রি মুর এর কনসেপ্ট থেকে এই পিভট আইডিয়াটি তৈরি। 

মুর এর মতে, বিজনেস আর্কিটেকচার প্রধানত দুই ধরণের হয়ে থাকে: 

  1. Low Margin, High Volume – সাধারণত B2B বিজনেস এই মডেলে কাজ করে, যেখানে কোম্পানিগুলো বাল্কে খুব কম মার্জিনে প্রোডাক্ট বিক্রি করে। যেমন IBM, Cisco ইত্যাদি।
  2. High Margin, Low Volume: সাধারণত B2C বিজনেস যেমন Apple, Dell ইত্যাদি।

বিজনেস আর্কিটেকচার পিভটে সাধারণত কোম্পানিগুলো পুরোপুরি পিভট না করে নতুন সার্ভিস এড করে। এতে তারা আরো বেশি রেভিনিউ পায়। যেমন চকবাজারের অনেক পাইকারী বিজনেস আলাদা একটা দোকান নিয়ে খুচরা প্রোডাক্টও বিক্রি করে। 

বর্তমানে কাস্টোমারের ডিমান্ডে অনেক বেশি চেইঞ্জ আসার কারণে আমাদের দেশের কোম্পানিগুলোও চিন্তা করতে পারে কিভাবে B2B এবং B2C দুটো সার্ভিসই প্রোভাইড করা সম্ভব। স্পেশালি Textile Industry, ইকমার্স, ফ্যাশন এবং অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি, ফুড এবং বেভারেজ ইত্যাদি ইন্ডাস্ট্রিগুলি নতুনভাবে ভাবতে পারে। 

৭। Value Capture Pivot

বিজনেসের রেভিনিউ মডেলটাই হচ্ছে তার Value Capture. 

রেস্টুরেন্ট ফুড আইটেম বিক্রি করে রেভিনিউ আদায় করে, আবার পাঠাও ফুড, Foodpanda, Hungry Naki সেই খাবার ডেলিভারি করে রেভিনিউ জেনারেট করে। ওদিকে Pizza Hut নিজের আইটেম নিজেই ডেলিভারি করে।

করোনাকাল এবং পোস্ট-করোনা দুনিয়াতে, অন্তত আগামী দুই বছর সম্ভবত আমাদের মিনিমাম কিছু Social Distancing মেনে চলতেই হবে, এমনকি যদি COVID-19 এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তারপরও। Microsoft এর Bill Gates কিন্তু এরই মধ্যে বলেছেন যে প্রতি পাঁচ বছরে এমন একটি ছোঁয়াচে রোগ ছড়াতে পারে। সুতরাং আমাদের এখন থেকে চিরতরে সতর্ক থাকতে হবে নতুন কোন Contagious virus কিংবা Pandemic এর জন্য।

এক্ষেত্রে Cloud Kitchen একটি উপযুক্ত মডেল হতে পারে অনেকের জন্যই, এবং এর জনপ্রিয়তাও অনেক বৃ্দ্ধি পাচ্ছে। আমরা রিসেন্টলি নিউযে দেখলাম বাংলাদেশের অন্যতম ক্লাউড কিচেন Kludio এবং ইন্ডিয়ার Ghost Kitchen জয়েন্ট ভেঞ্চার এর এগ্রিমেন্ট করেছে। আমরা দেখেছি ইগলু কোম্পানি তাদের আইসক্রিম নিজেরাই ডেলিভারি দিচ্ছে। 

৮। Engine of Growth Pivot

একটা স্টার্টআপের প্রধানত তিন ধরণের Growth Engine থাকতে পারে।

a) Viral – এক্ষেত্রে ইউজাররাই প্রোডাক্টকে প্রোমোট করবে। LinkedIn, Dropbox তাদের বিজনেসের শুরুতে এভাবে করেই গ্রোথ এনেছে। Growth Hacking আমাদের কাছে অনেক পরিচিত একটি টার্ম অলরেডি, যদিও বাংলাদেশে এর সঠিক প্রয়োগ এখনো তেমন ভাবে শুরু হয়নি প্রোপার নলেজ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর অভাবে। তবে এর জনপ্রিয়তা ক্রমশই বাড়ছে দেশে, অনেক কোম্পানিই Growth Hacking কে তাদের মার্কেটিং এর মধ্যে ইন্টিগ্রেট করার চেষ্টা করছে, যাদের মধ্যে ‘রকমারি’ অন্যতম। (এই আর্টিকেলের লেখকদের একজন, মার্ক অনুপম মল্লিক, বর্তমানে Growth Hacking এর উপর Doctoral Research করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের IBA তে।)

b) Paid Advertising – ডিজিটাল এবং অন্যান্য মিডিয়াতে অ্যাড দেখানোর মাধ্যমে নতুন কাস্টোমার বেইজ তৈরি করা।

c) Sticky (Customer Retention) – চালডাল, খাসফুড এর মতো কোম্পানি কাস্টোমার রিটেনশন কে হাইয়েস্ট প্রায়োরিটি দিচ্ছে তাদের গ্রোথ ইঞ্জিন হিসাবে।

লকডাউন শুরু হবার পর থেকে কাস্টোমার কেনা কমিয়ে দিয়েছে, ফলে বিজনেসগুলোর হাতেও মার্কেটিং এর জন্য যথেষ্ট ফান্ড নেই। আর তাছাড়া আমি-আপনি নিজেও কিন্তু এখন অপিরিচিত বা স্বল্পপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু কিনতে চাইবো না। কিছু লাগলে আমরা সেখান থেকেই কিনব যেখানে আমাদের প্রিভিয়াস এক্সপেরিয়েন্স ভাল।

ফোর্বস এর তথ্য অনুযায়ী, একজন নতুন কাস্টোমার তৈরী করার acquisition cost একজন existing customer retention cost এর চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে। Bain & Company (one of the big three consultancy firms) এর একটা রিসার্চ ফাইন্ডিংস ছিল যে কাস্টোমার রিটেনশন ৫% বাড়াতে পারলে প্রফিট ২৫ থেকে ৯৫ পারসেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এই মূহুর্তে সঠিক উপায়ে Growth Engine টাকে চালু রাখাটাই প্রত্যেক বিজনেসের মূল উদ্দেশ্য।

৯। Channel Pivot

বিশ্বের সবচেয়ে দামী ব্র্যান্ড Apple অনেক দিন ধরেই তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইট, এক্সপেরিয়েন্স স্টোর এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট সেল করে আসছিল। কিন্তু বিজনেস এক্সপ্যান্ড করার উদ্দেশ্যে তারা পরবর্তীতে reseller এর মাধ্যমেও বিক্রি করতে শুরু করে।

Lean Startup এর লেখন Eric Ries এর ভাষায় – “A channel pivot is a recognition that the same basic solution could be delivered through a different channel with greater effectiveness.”

আমাদের কাছে চ্যানেল পিভট এর অন্যতম সেরা একটি উদাহরণ হচ্ছে Netflix. 

মুভি এবং সিরিজ প্রোডিউসাররা বছরের পর বছর তাদের প্রোডাকশন মুভি থিয়েটার কিংবা টিভির মাধ্যমে broadcast করে আসছিল। ভিডিও ক্যাসেট এবং ভিসিডি ভাড়া দেয়া ছিল আরেকটা রেভিনিউ সোর্স। কিন্তু এখন Netflix এর মতো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তারা তাদের কন্টেন্ট ডেলিভারি করতে পারছে। 

বর্তমানে বিশ্বব্যাপী Education, Entertainment এবং Health-Fitness ইন্ডাস্ট্রিগুলো তাদের channel পিভট করতে শুরু করেছে। অনলাইনে ক্লাস শুরু হয়েছে আমাদের দেশেও, অনেক কালচারাল ইভেন্ট অনলাইনে হচ্ছে, প্রচুর জিম ট্রেইনার বা ইয়োগা ট্রেইনাররা ইউটিউব-জুমে ট্রেইনিং করাচ্ছে, এমনকি Nike তার প্রিমিয়াম ওয়ার্কআউট app এখন ফ্রিতে অফার করছে। 

বাংলাদেশে Media industry, বই এর লেখক, Health Industry গুলো নতুন করে চিন্তা করতে পারে কিভাবে তারা চ্যানেলকে পিভট করতে পারে।

১০। Technology Pivot

Financial Industry, অর্থাৎ ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সামনের দিনগুলোতে অনেক বেশি টেকনোলোজি পিভটের জন্য চিন্তা শুরু করতে পারে। এতদিন প্রথাগত ভাবেই তারা কাস্টোমারদেরকে তাদের ফিক্সড প্লেসে সার্ভিস দিয়ে আসছিল। কিন্তু গত কয়েকদিনে আমরা দেখেছি এর ফলে অনেক ভিড় এবং ভয়াবহ হেলথ রিস্ক তৈরি হচ্ছে employee এবং ক্লায়েন্ট সবার জন্যই।

 যেহেতু এসব ক্ষেত্রে অনলাইন সার্ভিস দিতে গেলে অত্যন্ত সফিসটিকেটেড সফটওয়ার, হাই সিকিউরিটি প্রয়োজন, সাথে rules and regulations এর ব্যাপারও রয়েছে, সেহেতু এক্ষেত্রে রিলেটেভ্লি বেশি সময় এবং ইনভেস্টমেন্ট এর প্রয়োজন হবে।

সবার শেষে আমরা আরেকবার Netflix এর উদাহরহ আনবো। 1997 সালে যখন Reed Hastings এর হাত ধরে নেটফ্লিক্স জন্ম নেয় তখন তারা ডিভিডি শিপিং এর উপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সময়ের সাথে টেকনোলজিকাল ক্যাপাসিটি বিল্ড করে এবং অনলাইন স্ট্রিমিং করে নেটফ্লিক্স এখন প্রায় 190 বিলিয়ন ডলারের কোম্পানি।

Pivot, Don’t Panic

করোনা নামক গ্লোবাল প্যান্ডেমিক বিজনেসের জন্য অনেক অনেক চ্যালেঞ্জই নিয়ে আসছে এবং আসবে, স্পেশালি early stage বিজনেসের জন্যে যাদের ফিনান্সিয়াল রিসোর্স খুবই রেস্ট্রিকটেড। কিন্তু আমাদেরকে এই New Normal এর সাথে খুব দ্রুতই খাপ খাইয়ে নিতে হবে এবং সারভাইবাল প্লাস গ্রোথ স্ট্রাটেজি তৈরি করতে হবে।

আমাদের সবাইকে মনে রাখতে হবে আগামী দুই বছরে বিশ্বের অর্থনৈতিক চিত্র একদমই বদলে যাবে, সাথে consumer need, behaviour ইত্যাদি। প্রতিটি বিজনেসকে তাই সময় নষ্ট না করে কি কি পরিবর্তন আসতে পারে, এবং তার জন্য উপযুক্ত স্ট্রাটেজি কি হতে পারে সেটা নিয়ে ভেবে, মনিটরিং এবং ইভ্যালুয়েশন স্ট্র্যাটেজি, কন্টিঞ্জেন্সি প্ল্যান ঠিক করে পদক্ষেপ নিতে হবে।

This crisis will end. 

Not today, not next month, but we will defeat this virus.

The question is – what are the actions you are taking to live in the new world?

আরো পড়ুনঃ Top 5 Business Strategies You Need During Corona Crisis

মাস দুয়েক আগে, করোনাভাইরাস তখনো সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, বিখ্যাত ব্রিটিশ নিউজপেপার ‘The Guardian’ এর একটি আর্টিকেল পড়েছিলাম। সেখানে প্রেডিক্ট করা হয়েছিল – করোনাভাইরাস ক্রাইসিস যদি pandemic এ রূপ নেয়, তাহলে গ্লোবাল বিজনেস এবং ইকোনমি One Trillion Dollars এর উপর লস খাবে।

মাত্র দুইমাসে, পুরো বিশ্বটার চেহারাই বদলে গেছে। লাখ লাখ বিজনেস বন্ধ হবার উপক্রম অলরেডি, আর আসলেই কত ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে সেটা এখনো প্রেডিক্ট করাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সেইম চিত্র আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে বাংলাদেশেও। স্টার্ট-আপ থেকে শুরু করে MNC; গার্মেন্টস, ট্রাভেল, এডুকেশন, টেক, এগ্রিকালচার, হেলথ, ফুড, এন্টারটেইনমেন্ট, মিডিয়া, ম্যানুফ্যাকচারিং – প্রতিটা সেক্টরের অধিকাংশ বিজনেস অলরেডি কঠিন অন্ধকার দেখছে সামনে।

কিন্তু আমরা মানব জাতি, এত সহজে একটা ভাইরাসের কাছে হার মেনে নেবার পাত্র আমরা নই। আপনার বিজনেস – আপনার স্বপ্ন, আপনার জীবিকা। নিজের সামর্থ্যের শেষ বিন্দুটুকু দিয়ে আপনি চেষ্টা করছেন তাকে রক্ষা করার জন্য।

এই পোস্টে আমি 5 টি ইফেক্টিভ বিজনেস স্ট্রাটেজি নিয়ে ডিসকাস করবো, যেগুলো এই ক্রাইসিস মোমেন্টে বিশ্বের নামকরা স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বিলিয়ন ডলারের এস্টাবলিশড conglomerate গুলোও ইমপ্লিমেন্ট করছে।

But remember – This is an unprecedented time for all of us.

এই স্ট্রাটেজির থেকে কোন একটি, বা সবগুলোই আপনার বিজনেসে এই বিপর্যয়ের সময়ে সার্ভাইব করতে সাহায্য করতে পারে, আবার কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ট্রাটেজিগুলো আপনাকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মডিফাই করে নিতে হবে।

Download FREE pdf Top 5 Business Strategies EXECUTION PLAN!

আর হ্যা, আপনি যেন এই 5 টি টপ বিজনেস স্ট্রাটেজি খুব সহজে এবং ইফেক্টিভলি ব্যবহার করতে পারেন সেজন্য আমি একটি FREE Execution Plan পিডিএফ তৈরী করছি। কারণ স্ট্রাটেজি তৈরি করার পর সেটা সঠিক ভাবে execute করাটা অনেক সময়ই চ্যালেঞ্জিং হয়। প্ল্যান্টটি এখানে ক্লিক করে Download করে নিতে পারেন।

১। Discount এবং FREE অফারঃ

অনেকের কাছে এই স্ট্রাটেজিটা অবশ্যম্ভাবী মনে হতে পারে, আবার অনেকের কাছে counter-intuitive মনে হতে পারে।সোশ্যাল ডিসটান্সিং শুরু হবার পর থেকে, যে কোম্পানিটা আমাদের সবার কাছে househole name হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি হচ্ছে Zoom!আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, Zoom কিন্তু মেইনলি প্রফেশনাল ইউজের জন্যই ডিজাইন করা, বাট নিজেদের সার্ভিস সবার কাছে এই প্রয়োজনের সময় উন্মুক্ত করে দিয়ে তারা ওয়ান অফ দ্যা টপ গ্রোথ অর্জন করেছে এই খরার মৌসুমে।কমিউনিকেশন ট্যুল লাইক Microrosft Team, Google Hangout বা Zoom এদের কথা বাদ দিলাম, এই ইন্ড্রাস্টি গুলো এখন ভাল করার সুযোগ সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর বাইরে আরেকটা ইন্ডাস্ট্রি যেটি ফ্রি এবং ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে সফলতা পাচ্ছে সেটি হচ্ছে Online Training.DigitalMarketer, আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি কোম্পানি যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ট্রেইনিং প্রোভাইড করে, এক মাসের জন্য তাদের প্রিমিয়াম ৪৯৫ ডলারের কোর্স এবং সাবস্ক্রিপশন ফ্রী করে দিয়েছিল। LinkedIn, Udemy এরাও কিন্তু সিমিলার অফার দিয়ে যাচ্ছে রেগুলারলি। আর একইভাবে আমাদের লোকাল EduTech স্টার্ট-আপ bohubrihi তাদের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কিছু কোর্স কমপ্লিটলি ফ্রি করে দিয়েছে, সাথে স্পেশাল ডিসকাউন্ট ও ছিল কিছুদিন।এইসব ফ্রি অফার, সাবস্ক্রিপশন এর ফলে কোম্পানিগুলো ইমিডিয়েটলি প্রফিট মেইক না করলেও হাজার হাজার একদম নতুন লীড জেনারেট করছে যারা সামনের দিনগুলোতে এই প্লাটফর্মে ফিরে ফিরে আসবে এবং পারচেইজ করবে।Entrepreneur রিসেন্টলি একটি সার্ভে চালিয়ে দেখেছে MAGIC 30% Discount কাস্টোমারদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে এই মূহুর্তে।আমি নিজে ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা জড়িত এবং angel investor হবার সুবাদে দেখেছি শুধুমাত্র Chaldal এর মতো গ্রোসারী নয়, বেশ কিছু ফ্যাশন বেইজড ইকমার্সও FREE Delivery এবং ডিসকাউন্ট দিয়ে আশাতিরিক্ত রেসপন্স পেয়েছে এর মাঝে।সুতরাং আপনার বিজনেস যে ইন্ডাস্ট্রিতেই হোক না কেন, এনালাইসিস করে দেখুন কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস এর most attractive পার্টটা ফ্রি কিংবা ডিসকাউন্টে দেয়া যায়।প্রথমত এর ফলে আপনি instantly অতি প্রয়োজনীয় কিছু cash জেনারেট করবেন যা আপনাকে কিছুটা ব্রিদিং স্পেস এবং রানওয়ে দেবে।দ্বিতীয়ত, এর ফলে ক্রিয়েট হওয়া নতুন কাস্টোমারদেরকে আপনি ভবিষ্যতে profitably রিটার্গেট করতে পারবেন অন্যান্য অফার দিয়ে।

২। Strategic Collaboration

করোনাভাইরাস-ক্রাইসিস এর একটা অত্যন্ত নেগেটিভ ব্যপার হচ্ছে আমরা এর জন্য একদমই প্রিপেয়ার ছিলাম না। যদিও আমরা খুব দ্রুত ওয়ার্ক ফ্রম হোম ইত্যাদি এডাপ্ট করে নেবার চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব, অন্যান্য অনেক জায়গাতেই আমাদের দূর্বলতা পুষিয়ে নেবার কোন সুযোগ আমরা পাই নি।আর এই দূঃসময়ে আপনার বিজনেসের খুব ইফেক্টিভ একটা বিজনেস স্ট্রাটেজি হতে পারে – Strategic Collaboration or Partnership.প্রতিটা বিজনেস এরই কিছু স্ট্রেন্থ কিছু উইকনেস থাকে। সাধারণত যেটা আপনার বিজনেসের core competency, সেখানে আপনি অত্যন্তু স্ট্রং।এখন এমন একটা সময়, যখন আপনার বিজনেসকে কিছুটা pivot না করলে সারভাইব করানো খুবই টাফ হতে পারে (পরবর্তী পয়েন্টে আমি pivot নিয়ে বিস্তারিত লিখবো)। কিন্তু pivot করতে গিয়ে দেখা যাবে যে ক্যাপাসিটি দরকার সেটি আপনার নেই।ফর এক্সাম্পল, আপনি একটি মার্কেটিং এজেন্সি রান করছেন, কিন্তু এই ক্রাইসিসে মার্কেটিং এবং Ad বাজেট কমে যাওয়াইয় আপনি ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন না। আপনি চিন্তা করলেন কিছুটা Pivot করে একটি অনলাইন এডুকেশন প্লাটফরম চালু করবেন যেহেতু এর চাহিদা বাড়ছে।আপনার বেশ কিছু ক্রিয়েটিভ এমপ্লয়ী রয়েছে যারা কোয়ালিটি কোর্স এবং কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবে। কিন্তু প্রব্লেম হলো আপনার টেকনোলজিকাল রিসোর্স নেই যারা আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করে দেবে, কিংবা আপনার এমপ্লয়ীদের কোর্স তৈরি করা বা পাবলিক স্পিকিং এর মতো এক্সপেরিয়েন্স নেই।সুতরাং আপনি এই মূহুর্তে যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে কোন টেক কোম্পানি, কিংবা স্টাবলিশড eLearning প্লাটফরমের সাথে collaboration করতে। সেই সাথে কোন Consultant বা Coach এর সাথে পার্টনারশিপ করতে পারেন স্টাফদেরকে ট্রেইনাপ করাতে।বাংলাদেশে আমরা অলরেডি দেখেছি Sheba.xyz, Daily Star এবং সমকাল যৌথভাবে কাজ করছে Mission Save Bangladesh নিয়ে। বিদ্যানন্দ, ইকুরিয়ার এর মতো ডেলিভারি কোম্পানির সাহায্য নিচ্ছে।গ্লোবালি Facebook এবং Microsoft অলরেডি WHO এর সাথে পার্টনারশিপ করেছে Hackathon করার জন্য। eMarketer এবং Business Insider জয়েন্ট ফোর্স করেছে রিসার্চ করার জন্য।

এছাড়াও রিসেন্টলি Facebook ইন্ডিয়াতে মুকেশ আম্বানীর ইন্টারনেট জায়ান্ট Jio এর সাথে 5.7 Billion ডলার ডীল করেছে!সুতরাং আপনাকে এই মূহুর্তে Identify করতে হবে আপনার বিজনেস সার্ভাইভ করানোর জন্য বা রেভিনিউ জেনারেট করার জন্য কি প্রয়োজন, এবং কাদের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আপনার মিউচিয়ালি বেনিফিটেড হবেন।এখানে একটা সতর্কবানী -Don’t make partnership for the sake of partnership. Make sure it is strategically right for both parties to grow your business at this crisis period.

Download FREE pdf Top 5 Business Strategies EXECUTION PLAN!

৩। Customer Retention With MarTech & Digital Marketing

ফোর্বস এর তথ্য অনুযায়ী, একজন নতুন কাস্টোমার তৈরী করার acquisition cost একজন existing customer retention cost এর চেয়ে ৫ গুণ বেশি হতে পারে। Bain & Company (one of the big three consultancy firms) এর একটা রিসার্চ ফাইন্ডিংস ছিল যে কাস্টোমার রিটেনশন ৫% বাড়াতে পারলে প্রফিট ২৫ থেকে ৯৫ পারসেন্ট পর্যন্ত বাড়তে পারে।

লকডাউন শুরু হবার পর থেকে কাস্টোমার কেনা কমিয়ে দিয়েছে, ফলে বিজনেসগুলোর হাতেও মার্কেটিং এর জন্য যথেষ্ট ফান্ড নেই। আর তাছাড়া আমি-আপনি নিজেও কিন্তু এখন অপিরিচিত বা স্বল্পপরিচিত কারো কাছ থেকে কিছু কিনতে চাইবো না। কিছু লাগলে চেষ্টা করবো সেখান থেকেই কিনতে বা সার্ভিস নিতে যেখানে আমার প্রিভিয়াস এক্সপেরিয়েন্স ভাল।

So the best shot with your limited marketing budget is to Laser Focus Target your existing, regular and loyal customers.

এবং এই খরার মৌসুমে কম খরচে ম্যাক্সিমাম আউটপুট আনতে Digital Marketing এবং MarTech (Marketing Technologies) এর দিকে আপনাকে বেশি করে ঝুকতে হবে। অযথা কস্টলি নতুন প্রসপেক্ট এর পিছনে না ছুটে যেহেতু কাস্টোমারদের ইনফো আপনার কাছে আছে, প্রোপার প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আইডেন্টিফাই করে তাদের কাছে পৌছাতে হবে। প্রয়োজনে নতুন মার্কেটিং চ্যানেল মিক্স ব্যবহার করে একটা integrated marketing communication করতে হবে।

“করোনাভাইরাসঃ বদলে দিতে যাচ্ছে পুরো মার্কেটিং এর জগত – আপনি কি প্রস্তুত?” শিরোনামে এর আগের একটি লেখাতে আমি পাঁচটি মার্কেটিং এরিয়া পয়েন্ট আউট করেছিলাম, চাইলে সেটি দেখে নিতে পারেন।

৪। Pivot Your Business

করোনার অর্থনৈতিক আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে রাইড শেয়ারিং। আমাদের লোকাল স্টার্টআপ Pathao তাদের মেইন রেভিনিউ স্ট্রীম রাইড শেয়ারিং বন্ধ থাকার কিছুদিনের মধ্যেই বন্ধপ্রায় সার্ভিস Pathao Tong কে আবার পুনরূজ্জীবিত করেছে এবং চেইন সুপার শপ ‘স্বপ্ন’ এর সাথে পার্টনারশীপে গ্রোসারী আইটেমস ডেলিভারি করছে।

কিন্তু তাই বলে এখন সব কোম্পানি একসাথে গ্রোসারী ডেলিভারী বিজনেস মডেল করতে চাইলে সেটা কিন্তু মোটেই ফলপ্রসু হবে না। আপনাকে অবশ্যই আপনার কোম্পানীর strength এবং competitive advantage অনুযায়ী pivot করার প্ল্যান করতে হবে। আপনাকে যথেষ্ট innovative হতে হবে, করোনাকালীন এবং post-corona world এর কোন একটা স্পেসিফিক এবং ইউনিক প্রব্লেম আইডেনটিফাই করে সলভ করার চেষ্টা করতে হবে।

উদাহরণস্বরুপ আমেরিকাতে Uber তাদের ড্রাইভার দের জন্য নতুন একটা ফিচার Work Hub ইন্ট্রোডিউস করেছে, যার মাধ্যমে ড্রাইভাররা তাদের অন্যান্য প্লাটফরম যেমন Uber Eats, Uber Works ইত্যাদির মাধ্যমে ভিন্ন কোন সার্ভিস (ডেলিভারি, সেলসম্যান ইত্যাদি) প্রোভাইড করতে পারবে।

সুতরাং আপনাকেও এই মূহুর্তে আপনার বিজনেসের কোর মডেল এর কাছাকাছি কোন একটা Pivot ফিগার আউট করতে হবে, প্রয়োজনে অন্য কারো সাথে strategic collaboration (পয়েন্ট টু তে ডিসকাস করেছি) করে হলেও।

আমার অন্যতম পছন্দের বই Lean Startup’ এর লেখক Eric Ries দশ ধরণের pivot এর কথা বলেছেন, সেগুলো ট্রাই করতে পারেন, এবং সময় পেলে আমি পরবর্তীতে আরও ডিটেইলস লিখব Pivoting গাইডলাইন দিয়ে।

আমার prediction, আগামী দুই বছরে এই ক্রাইসিস রিলেটেড প্রব্লেম এড্রেস করেই বিশ্বে অন্তত পাঁচটি Unicorn Startup জন্ম নেবে। এবং পরবর্তী বিশ বছর তারা রাজত্ব করবে সেই Breakthrough প্রোডাক্ট বা সার্ভিস এর মাধ্যমে যা আমরা এর আগে চিন্তা করি নি।

Ecommerce জায়ান্ট Amazon, একবিংশ শতাব্দীর শুরুতে Dotcom bubble এর মাঝে এভাবেই জন্ম নিয়েছিল। আর ঠিক একইভাবে বিগত অর্থনৈতিক মন্দার (২০০৮) সময় ইনোভেশন আনার মাধ্যমে জন্ম নিয়েছিল Uber, Instagram, Dropbox, Whatsapp, Slack, Airbnb এর মতো কোম্পানি গুলো।

যদিও এই প্রচন্ড ঝড়ে অসংখ্য অসংখ্য ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্থ এবং বন্ধ হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে, এবং বিজনেস মডেল চেইঞ্জ করার জন্য আগে টিকে থাকাটাও জরুরী। এ ব্যাপারে কিছু সাজেশন আমি দিয়েছিলাম স্টার্টাপ ফোকাসড অনলাইন মিডিয়া Future Startup এ “Surviving Coronavirus: A Guide For Startup” আর্টিকেলে।

Download FREE pdf Top 5 Business Strategies EXECUTION PLAN!

৫। Become a Story Brand

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্দের শেষের দিকে, যখন সবাই আশা করছিল একটা বড় ধরণের অর্থনৈতিক মন্দার, ঠিক তখনই আমেরিকাতে অটোমোবাইল কোম্পানিগুলো নতুন করে তাদের advertising effort বাড়াতে শুরু করেছিল। একইভাবে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলাও তাদের ভবিষ্যত কাস্টোমারদেরকে নতুন বাড়ির স্বপ্ন দেখাতে শুরু করলো। এবং আশ্চর্যজনক ভাবে, যুদ্ধের ঠিক পরপর খুব দ্রুতই ইকোনমি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করলো!

And guess which companies became most successful??

রাইট, সেই কোম্পানিগুলোই…যারা যুদ্ধকালীন তাদের মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল, আশার গল্প শুনিয়েছিল, এবং এভাবে করে কাস্টোমারদের Top of mind এ ছিল।

গত একশো বছরের ইতিহাসে, 1918 সালের spahish flu মহামারী থেকে শুরু করে ২০০৮ এর recession পর্যন্ত যত বিপর্যয় এসেছে, এবং তার মধ্যেও যেই বিজনেসগুলো সারভাইব করেছে তাদের মধ্যে একটা জিনিস কিন্তু কমন – তারা প্রতিনিয়ত কাস্টোমারদের সাথে engage থেকেছে, inspire করেছে, কাস্টোমারকে তাদের গল্পের হিরো বানিয়েছে, এবং আশার আলো দেখার প্লাটফরম তৈরি করেছে।

Mckinsey, আরেকটি Big Three কন্সালটেন্সি ফার্ম, এই করোনা-ক্রাইসিসে ব্রান্ডগুলোকে এই বিষয়গুলোতে ফোকাস করতে বলেছে – নতুন আঙ্গিকে কাস্টোমার এক্সপেরিয়েন্স সাজানো, কাস্টোমারের সাথে মিনিংফুল একটা রিলেশনশীপ তৈরি, কমিউনিটির কল্যাণ এর জন্য কাজ করা ইত্যাদি। এবং এই সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং এর মূহুর্তে এজন্য অবশ্যই আপনাকে Digital Marketing এবং MarTech এর পূর্ণ সদ্ব্যবহার করতে হবে।

আমরা বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড Grameenphone কে দেখেছি এই ক্রাইসিসের শুরু থেকেই সচেতনতামূলক এবং সময়োপোযোগী মার্কেটিং করতে, ECAB এর আহবানে Evaly সহ আরো অনেক ইকমার্স এগিয়ে আসছে ‘মানবসেবা’ তে, ছোট বড় আরো অসংখ্য কোম্পানি তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী খাবার বিতরণ থেকে শুরু করে হসপিটাল সেবা দিচ্ছে, Daily Star এবং প্রথম আলো এর মতো অন্যান্য নিউজ মিডিয়া নিজেদের চরম অর্থনৈতিক মন্দার মাঝেও মানুষের কাছে আশার বানী নিয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন।

ডিয়ার Brand Practitioners, আমাদের মনে রাখতে হবে যেসব কোম্পানি এখন তাদের কাস্টোমার এবং এমপ্লয়ীদের যত্ন নেবে, উপযুক্ত কন্টেন্ট এবং ভ্যালু প্রোভাইড করবে সেই লয়্যাল কাস্টোমার এবং এমপ্লয়ীরাই একসময় হাজার গুণ রিটার্ন এনে দেবে।

You’re Just One Idea Away!

একদিন এই ঝড় শান্ত হবে – আবার আমরা একসাথে হাঁটবো পিচঢালা রাস্তায় প্রচন্ড রোদ্দুরে কিংবা গা ভেজাবো পরম শান্তির বৃষ্টির জলে। এর মাঝে হয়তো অনেক কিছুই চিরতরে বদলে যাবে – কিন্তু এরমাঝেও আমরা যুদ্ধ করে যাব এই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে জীবন এবং জীবিকার জন্য।

আমি আন্তরিক ভাবে আশা করি বাংলাদেশে হয়তো আপনার হাত ধরেই পরবর্তী innovation এবং breakthrough টি আসবে যার ফলে কোটি কোটি মানুষ উপকৃ্ত হবে। সেই সাথে বিশ্বাস করি আলোচিত পাঁচটি স্ট্রাটেজি আপনাকে এই ক্রাইসিস মোমেন্টে সামনে এগিয়ে চলার জন্য কিছু রসদ যোগাবে।

আপনার মহামূল্যবান মন্তব্য এবং পরবর্তীতে কি নিয়ে আলোচনা করতে পারি কাইন্ডলি কমেন্টে জানাবেন। Stay Safe.

get yOUR 

FREE plan now!

[এই আর্টিকেলটি আপডেট করা হয়েছে এই লিঙ্কটিতে, দয়া করে সেখান থেকে ফুল আর্টিকেলটি পড়ুন – Top 5 Business Strategies During Corona Crisis]

মাস দুয়েক আগে, করোনাভাইরাস তখনো সারা বিশ্বে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েনি, বিখ্যাত ব্রিটিশ নিউজপেপার ‘The Guardian’ এর একটি আর্টিকেল পড়েছিলাম। সেখানে প্রেডিক্ট করা হয়েছিল – করোনাভাইরাস ক্রাইসিস যদি pandemic এ রূপ নেয়, তাহলে গ্লোবাল বিজনেস এবং ইকোনমি One Trillion Dollars এর উপর লস খাবে।

মাত্র দুইমাসে, পুরো বিশ্বটার চেহারাই বদলে গেছে। লাখ লাখ বিজনেস বন্ধ হবার উপক্রম অলরেডি, আর আসলেই কত ট্রিলিয়ন ডলারের ধাক্কা খেতে যাচ্ছে সেটা এখনো প্রেডিক্ট করাটাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

সেইম চিত্র আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে বাংলাদেশেও। স্টার্ট-আপ থেকে শুরু করে MNC; গার্মেন্টস, ট্রাভেল, এডুকেশন, টেক, এগ্রিকালচার, হেলথ, ফুড, এন্টারটেইনমেন্ট, মিডিয়া, ম্যানুফ্যাকচারিং – প্রতিটা সেক্টরের অধিকাংশ বিজনেস অলরেডি কঠিন অন্ধকার দেখছে সামনে।

কিন্তু আমরা মানব জাতি, এত সহজে একটা ভাইরাসের কাছে হার মেনে নেবার পাত্র আমরা নই। আপনার বিজনেস – আপনার স্বপ্ন, আপনার জীবিকা। নিজের সামর্থ্যের শেষ বিন্দুটুকু দিয়ে আপনি চেষ্টা করছেন তাকে রক্ষা করার জন্য।

এই পোস্টে আমি 5 টি ইফেক্টিভ বিজনেস স্ট্রাটেজি নিয়ে ডিসকাস করবো, যেগুলো এই ক্রাইসিস মোমেন্টে বিশ্বের নামকরা স্টার্টআপ থেকে শুরু করে বিলিয়ন ডলারের এস্টাবলিশড conglomerate গুলোও ইমপ্লিমেন্ট করছে।

But remember – This is an unprecedented time for all of us.

এই স্ট্রাটেজির থেকে কোন একটি, বা সবগুলোই আপনার বিজনেসে এই বিপর্যয়ের সময়ে সার্ভাইব করতে সাহায্য করতে পারে, আবার কোনটা আপনার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে স্ট্রাটেজিগুলো আপনাকে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী মডিফাই করে নিতে হবে।

১। Discount এবং FREE অফারঃ

অনেকের কাছে এই স্ট্রাটেজিটা অবশ্যম্ভাবী মনে হতে পারে, আবার অনেকের কাছে counter-intuitive মনে হতে পারে।

সোশ্যাল ডিসটান্সিং শুরু হবার পর থেকে, যে কোম্পানিটা আমাদের সবার কাছে househole name হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেটি হচ্ছে Zoom!

আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, Zoom কিন্তু মেইনলি প্রফেশনাল ইউজের জন্যই ডিজাইন করা, বাট নিজেদের সার্ভিস সবার কাছে এই প্রয়োজনের সময় উন্মুক্ত করে দিয়ে তারা ওয়ান অফ দ্যা টপ গ্রোথ অর্জন করেছে এই খরার মৌসুমে।

কমিউনিকেশন ট্যুল লাইক Microrosft Team, Google Hangout বা Zoom এদের কথা বাদ দিলাম, এই ইন্ড্রাস্টি গুলো এখন ভাল করার সুযোগ সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু এর বাইরে আরেকটা ইন্ডাস্ট্রি যেটি ফ্রি এবং ডিসকাউন্ট অফার দিয়ে সফলতা পাচ্ছে সেটি হচ্ছে Online Training.

DigitalMarketer, আমার অত্যন্ত পছন্দের একটি কোম্পানি যারা বিশ্বের অন্যতম সেরা মার্কেটিং স্ট্রাটেজি ট্রেইনিং প্রোভাইড করে, এক মাসের জন্য তাদের প্রিমিয়াম ৪৯৫ ডলারের কোর্স এবং সাবস্ক্রিপশন ফ্রী করে দিয়েছিল। LinkedIn, Udemy এরাও কিন্তু সিমিলার অফার দিয়ে যাচ্ছে রেগুলারলি। আর একইভাবে আমাদের লোকাল EduTech স্টার্ট-আপ bohubrihi তাদের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কিছু কোর্স কমপ্লিটলি ফ্রি করে দিয়েছে, সাথে স্পেশাল ডিসকাউন্ট ও ছিল কিছুদিন।

এইসব ফ্রি অফার, সাবস্ক্রিপশন এর ফলে কোম্পানিগুলো ইমিডিয়েটলি প্রফিট মেইক না করলেও হাজার হাজার একদম নতুন লীড জেনারেট করছে যারা সামনের দিনগুলোতে এই প্লাটফর্মে ফিরে ফিরে আসবে এবং পারচেইজ করবে।

Entrepreneur রিসেন্টলি একটি সার্ভে চালিয়ে দেখেছে MAGIC 30% Discount কাস্টোমারদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করছে এই মূহুর্তে।

আমি নিজে ইকমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে কিছুটা জড়িত এবং angel investor হবার সুবাদে দেখেছি শুধুমাত্র Chaldal এর মতো গ্রোসারী নয়, বেশ কিছু ফ্যাশন বেইজড ইকমার্সও FREE Delivery এবং ডিসকাউন্ট দিয়ে আশাতিরিক্ত রেসপন্স পেয়েছে এর মাঝে।

সুতরাং আপনার বিজনেস যে ইন্ডাস্ট্রিতেই হোক না কেন, এনালাইসিস করে দেখুন কিভাবে আপনার প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিস এর most attractive পার্টটা ফ্রি কিংবা ডিসকাউন্টে দেয়া যায়।

প্রথমত এর ফলে আপনি instantly অতি প্রয়োজনীয় কিছু cash জেনারেট করবেন যা আপনাকে কিছুটা ব্রিদিং স্পেস এবং রানওয়ে দেবে।

দ্বিতীয়ত, এর ফলে ক্রিয়েট হওয়া নতুন কাস্টোমারদেরকে আপনি ভবিষ্যতে profitably রিটার্গেট করতে পারবেন অন্যান্য অফার দিয়ে।

২। Strategic Collaboration

করোনাভাইরাস-ক্রাইসিস এর একটা অত্যন্ত নেগেটিভ ব্যপার হচ্ছে আমরা এর জন্য একদমই প্রিপেয়ার ছিলাম না। যদিও আমরা খুব দ্রুত ওয়ার্ক ফ্রম হোম ইত্যাদি এডাপ্ট করে নেবার চেষ্টা করছি যতটা সম্ভব, অন্যান্য অনেক জায়গাতেই আমাদের দূর্বলতা পুষিয়ে নেবার কোন সুযোগ আমরা পাই নি।

আর এই দূঃসময়ে আপনার বিজনেসের খুব ইফেক্টিভ একটা বিজনেস স্ট্রাটেজি হতে পারে – Strategic Collaboration or Partnership.

প্রতিটা বিজনেস এরই কিছু স্ট্রেন্থ কিছু উইকনেস থাকে। সাধারণত যেটা আপনার বিজনেসের core competency, সেখানে আপনি অত্যন্তু স্ট্রং।

এখন এমন একটা সময়, যখন আপনার বিজনেসকে কিছুটা pivot না করলে সারভাইব করানো খুবই টাফ হতে পারে (পরবর্তী পয়েন্টে আমি pivot নিয়ে বিস্তারিত লিখবো)। কিন্তু pivot করতে গিয়ে দেখা যাবে যে ক্যাপাসিটি দরকার সেটি আপনার নেই।

ফর এক্সাম্পল, আপনি একটি মার্কেটিং এজেন্সি রান করছেন, কিন্তু এই ক্রাইসিসে মার্কেটিং এবং Ad বাজেট কমে যাওয়াইয় আপনি ক্লায়েন্ট পাচ্ছেন না। আপনি চিন্তা করলেন কিছুটা Pivot করে একটি অনলাইন এডুকেশন প্লাটফরম চালু করবেন যেহেতু এর চাহিদা বাড়ছে।

আপনার বেশ কিছু ক্রিয়েটিভ এমপ্লয়ী রয়েছে যারা কোয়ালিটি কোর্স এবং কন্টেন্ট তৈরি করতে পারবে। কিন্তু প্রব্লেম হলো আপনার টেকনোলজিকাল রিসোর্স নেই যারা আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করে দেবে, কিংবা আপনার এমপ্লয়ীদের কোর্স তৈরি করা বা পাবলিক স্পিকিং এর মতো এক্সপেরিয়েন্স নেই।

সুতরাং আপনি এই মূহুর্তে যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে কোন টেক কোম্পানি, কিংবা স্টাবলিশড eLearning প্লাটফরমের সাথে collaboration করতে। সেই সাথে কোন Consultant বা Coach এর সাথে পার্টনারশিপ করতে পারেন স্টাফদেরকে ট্রেইনাপ করাতে।

বাংলাদেশে আমরা অলরেডি দেখেছি Sheba.xyz, Daily Star এবং সমকাল যৌথভাবে কাজ করছে Mission Save Bangladesh নিয়ে। বিদ্যানন্দ, ইকুরিয়ার এর মতো ডেলিভারি কোম্পানির সাহায্য নিচ্ছে।

গ্লোবালি Facebook এবং Microsoft অলরেডি WHO এর সাথে পার্টনারশিপ করেছে Hackathon করার জন্য। eMarketer এবং Business Insider জয়েন্ট ফোর্স করেছে রিসার্চ করার জন্য।

সুতরাং আপনাকে এই মূহুর্তে Identify করতে হবে আপনার বিজনেস সার্ভাইভ করানোর জন্য বা রেভিনিউ জেনারেট করার জন্য কি প্রয়োজন, এবং কাদের সাথে পার্টনারশিপের মাধ্যমে আপনার মিউচিয়ালি বেনিফিটেড হবেন।

এখানে একটা সতর্কবানী –

Don’t make partnership for the sake of partnership. Make sure it is strategically right for both parties to grow your business at this crisis period.

(পরবর্তী পর্বে বাকি 3 টা স্ট্রাটেজি নিয়ে লিখবো। আপনার মতামত কাইন্ডলি কমেন্টে জানাবেন, Stay Safe)

[এই আর্টিকেলটি আপডেট করা হয়েছে এই লিঙ্কটিতে, দয়া করে সেখান থেকে ফুল আর্টিকেলটি পড়ুন – Top 5 Business Strategies During Corona Crisis]

COVID – 19, ইতিমধ্যে প্রায় অচল করে দিয়েছে লাখ লাখ বিজনেস, কোটি কোটি মানুষের লাইফ হুমকির সম্মুখীন, সাথে জব হারানোর আশংকা। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এর বিশাল প্রভাব আমরা অলরেডি দেখতে পাচ্ছি consumer behaviour এ, বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্বে। 

এবং আমার দৃঢ় বিশ্বাস, মার্কেটিং এর দুনিয়াতে একটা paradigm shift আসতে যাচ্ছে corona এবং post-corona ওয়ার্ল্ডে।

ডিয়ার মার্কেটার্স, প্রশ্ন হচ্ছে, কিভাবে আমি আপনি সেই চেইঞ্জ এর জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারি সময় থাকতেই?

ডেফিনিটলি এই গ্লোবাল ক্রাইসিস এর শর্ট টার্ম এবং লং টার্ম ইম্প্যাক্ট আছে advertising এর উপর। অসংখ্য ইভেন্ট ক্যান্সেল হয়ে গিয়েছে অলরেডি, আমাদের দেশে মুজিব বর্ষ এর লঞ্চিং থেকে শুরু করে টোকিও অলিম্পিক, মেজর সব স্পোর্টিং ইভেন্ট, কনফারেন্স, এবং আরো অনেক অনেক সামনে ক্যান্সেল হতে যাচ্ছে। আর সেই সাথে কমে গিয়েছে প্রায় সকল ধরণের ট্রেডিশনাল এবং ডিজিটাল মার্কেটিং এক্টিভিটিজ।

eMarketer প্রেডিক্ট করেছে দেখলাম 2020 এ বিশ্বের টোটাল ad spent 712.02 billion dollar থেকে কমে 691.7 billion dollar এ দাঁড়াবে। ট্রাভেল, রিটেইল এবং বিনোদন সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খাচ্ছে এই মূহুর্তে, যেগুলো ফেইসবুকের রেভিনিউ এর 30-40% কাভার করে। এক্সপার্টরা তাই বলছে ফেইসবুকের ad revenue কমে আসবে অনেক।

কিন্তু এগুলো তো শর্ট টার্ম বা মিড টার্ম, আমার ধারণা লং টার্মেও অনেক অনেক চেইঞ্জ আসবে আমাদের বিজনেসগুলোতে, চেইঞ্জ আসবে ব্রান্ডিং এ, মার্কেটিং এ। 

যেহেতু এখনই সব কিছু ধারণা করা কারো পক্ষেই সম্ভব নয়, আমি এখানে ৫টি এরিয়া পয়েন্ট আউট করলাম যেখানে আমার মতে বিশাল পরিবর্তন আসবে। আর ভবিষ্যতেও লেখার চেষ্টা করবো এই টপিকে।

১। ডিজিটাল মার্কেটিং ছাড়িয়ে যাবে ট্রেডিশনাল মার্কেটিং কে

করোনাভাইরাসকে গ্লোবাল pandemic হিসেবে ঘোষণা করা এবংবাংলাদেশে প্রথম কিছু রোগী সনাক্ত করার পর থেকে অনেক ব্র্যান্ড social awareness এর উপর জোর দিচ্ছে। আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি Sepnil হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিয়ে Square এর Content Branding থেকে শুরু করে GP এর Stay Home ডিজিটাল ক্যাম্পেইন। 

যেহেতু আমরা দেশব্যাপী ছুটি বা লকডাউনের কারণে Work from Home করছি, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার, ভিডিও দেখা এগুলোও অনেক অনেক বেড়ে গেছে। সামনের দিনগুলোতে এবং দূরের ভবিষ্যতেও কিন্তু আমরা আগের থেকে অনেক বেশি সতর্ক থাকবো জনসমাগম এড়াতে।

ফলাফল? Digital Content অনেক অনেক গুণ বেড়ে যাবে। কোম্পানী গুলো Out-Of-Home বা অন্যান্য বেশ কিছু ট্রেডিশনাল এডভার্টাইজিং এর বদলে ঝুকে পরবে আরো বেশি ডিজিটাল  এডভার্টাইজিং এর দিকে।

২। সেফটি, ট্রান্সপারেন্সি এবং একাউন্টেবিলিটি ইন মার্কের্টিং মেসেজ

গত কয়েক দিনে আমরা দেখেছি বেক্সোমকো – আকিজ গ্রূপের মতো কোম্পানী গুলো এগিয়ে এসেছে মানবতার সেবায়। Sheba.xyz, Daily Star, Samakal শুরু করেছে Mission Save Bangladesh, এরকম আরো অনেক উদাহরণ রয়েছে আমাদের চারপাশে। প্রতিটা এক্টিভিটি আমাদের মনে পজিটিভ brand image তৈরি করছে, যা কিনা brand asset হিসেবে কাজে লাগবে সামনের দিনগুলোতে।

যেহেতু আমরা ছোঁয়াচে ভাইরাস নিয়ে আগের থেকে শতগুণ সচেতন, প্রতিটা ব্রান্ডকে প্রায়োরিটি দিতে হবে কাস্টোমার সেফটি মিজারমেন্টের উপর। শুধু স্টেপ নিলেই হবে না, সেগুলো আবার ঠিক মতো জানাতে হবে কাস্টোমারকে। সুতরাং এখন থেকে প্রতিটা ব্যান্ডকে কাস্টোমার এবং এমপ্লয়ী সেফটি নিশ্চিত করতে হবে এবং একটা core value হিসাবে সঠিক ভাবে convey ও করতে হবে তাদের মার্কেটিং চ্যানেলগুলোতে।

৩। MarTech এবং AI-Assisted Advertising

করোনা উত্তর দুনিয়াতে বিজনেস ইনোভেশন অবশ্যম্ভাবী। Amazon এর হিউম্যান-কন্টাক্টলেস ড্রোন ডেলিভারি প্রজেক্ট এখন টপ প্রায়োরিটি পাবে, ফেইসবুক ঝাপিয়ে পরবে Virtual Reality প্রজেক্টে, গৃহবন্দী মানূষদের বেটার অপশন দেবার আশায়।

আর এইসবকিছুর ফলাফল? Marketing Technology এবং Artificial Intelligence Assisted Advertising এর প্রতি কোম্পানীগুলোর অনেক বেশি নির্ভরশীল হওয়া, যেন ডিজিটাল প্লাটফর্মে সঠিক কাস্টোমারকে সঠিক সময়ে সঠিক প্রডাক্ট / সার্ভিস অফার করা যায়।

সুতরাং আপনার কোম্পানীর এখনই সঠিক সময় MarTech, AI এবং Deep Learning কে আরো অনেক অনেক বেশি প্রায়োরিটি দেওয়া।

৪. ইকমার্স এর প্রাধান্য

Covid – 19, এবং পরবর্তীতে এই জাতীয় সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষার জন্য মানুষের জেনারেল টেন্ডেন্সি হবে পাবলিক প্লেস এবং গ্যাদারিং এভয়েড করা। এর ফলে কিন্তু রিটেইল শপ, সার্ভিস সেন্টারে কাস্টোমারের আনাগোনা কমে যাবে ব্যাপক হারে।

আমার জানা মতে অসংখ্য ইকমার্স এবং SME এখন বিপর্যয়ের সম্মুখীন, স্পেশালি সব ধরণের লাইফস্টাইল কিংবা impulse buy ইত্যাদি প্রোডাক্ট। তবে নিজেদের প্রোডাক্ট এবং offering গুলো pivot করে হয়তো অনেকে টিকে থাকবে এই ক্রাইসিস মোমেন্ট এবং পরবর্তী মাসগুলোতে।

গত কয়েক সপ্তাহে আমরা দেখেছে Chaldal এর অর্ডার প্রায় তিনগুণ হতে। Pathao এর মতো কোম্পানি রাইড শেয়ারিং এ প্রচন্ড ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে এখন হাইলি ফোকাস করছে Pathao Tong এর মাধ্যমে গ্রোসারি ডেলিভারি তে। ফুড রেস্টুরেন্ট গুলো চাচ্ছে হোম ডেলিভারি করতে, ডিমান্ড বাড়বে Clould Kitcen এর, সেইম ফর অনলাইন ফার্মেসিস। 

সুতরাং গভর্মেন্ট এজেন্সি থেকে শুরু করে যেসব কোম্পানির পক্ষে সম্ভব, তারাই এখন থেকে চেষ্টা শুরু করবে প্রসেস ডেভেলপমেন্ট করে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস বাসায় পৌছে দিতে। বাংলাদেশে প্রধান শহর গুলির বাইরে ইকমার্স এখনো ততটা জনপ্রিয় না, এবং লাস্ট মাইল ডেলিভারিতেও অনেক চ্যালেঞ্জ ফেইস করছে ইকুরিয়ার, পাঠাও, পেপারফ্লাই থেকে শুরু করে অন্যান্য ডেলিভারি কোম্পানিগুলো। কিন্তু A2i এর সহযোগিতায় তারাও এখন আরো বেশি রিসোর্স এলোকেট করবে লাস্ট-মাইল-ডেলিভারী এর জন্য।

৫। কাজের পদ্ধতিগত পরিবর্তন

Work-from-home কিন্তু আগামী এক দুই সপ্তাহে কিংবা মাসেই শেষ নয়, আমার বিশ্বাস আমাদের ওয়ার্কপ্লেস এর ম্যাসিভ একটা চেইঞ্জ আসবে এই ক্রাইসিস এর কারণে। অদূর ভবিষ্যতে ইনোভেশন আসবে ম্যানুফ্যাকচারিং প্রসেসে, প্রধাণ্য পাবে Robotics এর মতো টেকনোলোজি। একই ভাবে অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রিগুলোও আস্তে আস্তে এমন প্রসেস ডেভেলপ করতে চেষ্টা করবে যেন ভবিষ্যতে এরকম কোন contagious disease আসলেও কোন কিছু বন্ধ না থাকে। বদলে যাবে প্রতিদিনের বাসা-অফিস-বাসা যাতায়াতের পদ্ধতি।

আর সেজন্য আপনার কোম্পানিকেও নতুন করে চিন্তা করতে হবে আপনাদের প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস নিয়ে। আপনার Target Group যদি remote work এ শিফট করে, সেক্ষেত্রে আপনার অফারিং, ব্র্যান্ডিং এবং মার্কেটিং মেসেজও accordingly শিফট করতে হবে ন্যাচারালি।

Act Now, Don’t Wait till It’s Too Late!

করোনাভাইরাস আমাদের জেনারেশন এর জন্য একদম নতুন অভিজ্ঞতা এবং ক্রাইসিস, যে কারণে আমরা সময়োপযোগী অনেক পদক্ষেপই নিতে পারি নি শুরুতেই ভাইরাস এর সংক্রমণ ঠেকানোর। 

কিন্তু এখন আমরা শিখছি, এবং as human race, খুব দ্রুতই আমরা আবিষ্কার করে ফেলবো কিভাবে এরকম contagious ভাইরাস এর সাথে ফাইট করতে হয়।

আর এজন্যই, এখনই উপযুক্ত সময় স্বাস্থ্য-সুরক্ষার পাশাপাশি আপনার কোম্পানির শর্ট টার্ম এবং লং টার্ম মার্কেটিং স্ট্রাটেজি নিয়ে কাজ করার। এই pandemic থেকে রাতারাতি মুক্তি পাবার কোন উপায় হয়তো আমাদের হাতে নেই, কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা আমাদেরকে সাহায্য করবে এই ক্রাইসিস এর ক্ষতির মাত্রা কমিয়ে আনতে।

Let’s stand strong together in the crisis moment. Let’s support each other in the fight against coronavirus. Let’s extend our helping hands and survive this global phenomenon.

পরবর্তীতে পড়ুনঃ The Curious Case of Evaly!

In this article, we are going to show 7 Practices on how to work from home during the crisis through Infographic. We have also published a text based article on this, you can check that here.

Please understand that each company’s need and culture is different, so consider this as a guideline, and customize per your company’s needs.

We will keep fighting against the virus and survive this pandemic together. 

And when we do, we will become stronger than ever. 

You have never worked from home during a pandemic before.

Sure, in this digital era, it’s possible you have spent a day or two in your life working from home, or maybe you are working completely remotely for long.

But, going from fully physical office to fully remote in a week’s notice, then maintaining the Home-Office balance while getting flooded with the COVID-19 breaking news, it’s something unique.

After publishing the article Surviving Coronavirus: A Guide For Startup in Future Startup, I got hundreds of messages from leaders who expressed concern regarding the ways to work from home staying productive. In this article, we will try to provide some guidelines and 7 Practices that can help you and your company to stay productive during this pandemic.

[We have also published an Infographic, you can check that as well.]

How to Lead Your Company To Work From Home

Since the outbreak of COVID-19, we have seen many companies already declared working completely from home. Many companies are partially working from home considering the need for physical presence (like Service Companies, financial institutions, Food Industry, Delivery Companies, etc). These include large corporations like GP, Unilever, Brac and Startups like Pathao, Truck Lagbe, Bongo, Styline, Intelligent Machines and many more. 

While it’s easier to work from home for some of the departments, it’s extremely challenging for service companies to work completely remote and serve the customer in this time of need. I have talked with several leaders from startups like Paperfly, Kludio, eCourier, Pathao; and they mentioned to help the community getting service in this critical moment, they are continuing limited operations while maintaining maximum protection for their staff and customers.

Whether your company is fully remote or partially, you need to create a “Virtual Workplace Protocol” for your employees. I have written more detailed guidelines on this topic in my earlier article that you can follow. 

Ruhul Kader, CEO of Future Startup, with his years of Work From Home experience, has provided some incredible resources and guidelines that you can use while working from home in this Surviving A Pandemic: The Complete Working From Home Guide article. I highly recommend checking that out if you haven’t already.

Apart from those above guidelines – I suggest creating a ‘Work From Home’ policy and share with your employees if we are going remote for more than one month. This policy should include Leave policy, Responsibilities, Communications protocol etc.

Then set up the essential tools, and train your employees to use them efficiently. Some of the tools we suggest are Google Suits (Gmail, Google Drive, Docs, Sheets etc), Slack / Whatsapp / Skype / Google Hangout / Zoom, Trello / Asana / Todoist, Time Management Tools and of course your companies own customized tools and web applications.

Be in touch with your employees more than you used to be at the office. Check out in the morning and midday and know what they are working on. At the end of the day, you can ask everyone to send a ‘Status Update’ email summarizing what they have accomplished that day.

Now, I am not talking about micromanaging here. But you need to make your team productive, as well as your employees need a supportive hand and guidance more frequently.

Use video as much as you can, this will help to reduce the stress of isolation and will feel to be connected.  Beside communicating as a group, the managers need to have one to one sessions on a regular basis. Whenever needed, you can share screens to help out each other.

And finally, build a culture. We don’t know how long we will need to work from home. It can be for one week, it can be a year. Start thinking about how to build a distinctive culture company-wide if you need to continue this for several months.

This “A Founder’s Guide To Surviving Coronavirus Pandemic” article will also be helpful for you to ensure health of your business in this extraordinary time.

Work from Home Practices During a Pandemic

In this article, I am going to describe 7 Practices on how to work from home during the crisis. Please understand that each company’s need and culture is different, so consider this as a guideline, and customize per your company’s needs.

1. Create a Workspace at Your Home

One of the biggest challenges that you may face while working from home is keeping your home and office life separate. 

Since you were going to the office every day, there was a clear physical distinction. The office structure, the environment, your colleagues everything used to put you in the ‘working’ mood instantly. And then at the end of the day when you come back, you used to switch to ‘home’ mood. 

This is not going to happen since you are suddenly starting to work from home. It’s tough, I know! 

Being a Software Engineer, for the last few years I have often brought my work laptop home and jumped into fixing a bug or two at the weekends. But we decided to go completely remote at CodeCrafters for the time being, it feels so different. 

So I suggest creating a temporary workspace at your home right now. 

While talking with Tariqul Hasan, Lead Software Engineer, CodeCrafters International, he said that he set up a neat workspace to work from home in the coming days, with multiple monitors and other tools that he normally used in the office (see the pic).

Now, you may not need or have the capacity to have a full-fledged workspace at this moment. But instead of just working from your drawing room sofa while the TV is on (and showing news of Corona spread), consider isolating yourself in a separate room during office hours. 

And your workspace doesn’t have to be its own room—it can be a corner in a room—but it should feel as separate from the rest of your home as possible. 

2. Set Clearly Defined Working Hours

Remember that we don’t know how long we are going to be working from home during this critical moment. It can be days, it can be months. 

If you don’t have dedicated working hours, if you start working at 11 am one day, and keep working on late nights another day, soon your work-home life will start to suffer. It will feel like you are 24 hours working, while you are 24 hours at home, and it will start to create a lot of stress.

I suggest companies use some kind of time tracking tools, it can be a full-fledged software, or simply a google sheet. Everyone will log the time they are working and will write down on what they are working at that time. This will help both the managers and employees to keep their time dedicated.

Start your day every day at the same time, and end the day at the same time. Take short breaks as necessary, and at the end of the day completely stay away from work.

3. Stay Focused And Productive 

Distraction is one of the major challenges we face while working from home, especially as many of us are not used to it. 

In the book review on ‘Deep Work – Rules for Focused Success in a Distracted World by Cal Newport’, I mentioned removing distractions of Social Media. This is very important now since it’s our natural tendency to get sucked into Facebook feed and news media to know what’s going around.

While I personally don’t like companies to use screen capture tools to monitor their employees, it will be your responsibility to stay focused and productive.

One of the methods that can be helpful for you to stay focused on is the “Pomodoro Technique”. Using this method, you break your workday into 25-minute chunks separated by five-minute breaks. 

I personally find it very helpful to get a cup of coffee, put my headphones on, shut down all notifications and then dive deep into work for a specific chunk of hours (two hours work best for me). Use the ways that work best for you.

Remember that:

High-Quality Work Produced = (Time Spent) x (Intensity of Focus)

4. Avoid Distractions and Non-work related Activities

This is one of the major concerns when you are working from home since your spouse, parents, and kids are at home as well. Explain your loved ones that you are fully working, and not available for any kind of household chores or discussions during working hours.

It’s okay to take short breaks, check the news, talk with your family. But otherwise, keep those tabs closed from your browser and don’t get involved with non-work related activities.

At the end of the day, complete disconnect from your work and give the people you care about your full attention. Having a separate time and space to work will allow you to be more present in your home life and maintain Home-Office blance.

5. Communicate, Communicate, Communicate

Out of sight, out of mind can be a real problem for remote workers.

As we are not used to working from home, chances are there will be some bumps in the road as we are suddenly going remote. The key to steering through these bumps is communication, especially with your direct manager. 

Communicate with your manager when you start your work, it can be a Slack or What’s app message or can be a short Skype call to start your day. Whenever you are stuck, be in touch with your manager.

Not only regarding the work but get in touch with your colleagues from time to time. If you were in the office, you would talk to them several times a day. 

Stay connected, but make sure you are not distracting others too much by sending too many Instant messages. Email can be a good communication tool for this, but each company will need to establish its own communication protocol and channels.

6. Maintain Rituals

At the office, we normally have different kinds of rituals, based on our company culture. Each culture is unique, and the rituals are unique. Try to replicate the rituals you had in the office while working from home.

I have seen many remote work experts suggest to ‘Get Dressed’ while you are working from home. It might seem like a simple tip, but it can be a crucial one. 

Commuting to office, following the dress code used to set our mind ready to work. You can try going to your bedroom in the morning, getting dressed for the office, then go to your workspace. At the end of the day, close your work laptop, go to the bedroom and change to your comfortable home dress.

Another ritual can be arranging Video calls with all employees, or team-wise, at a specific time of the workday. It can be your Snacks/Teatime or sometime in the afternoon when your manager used to provide daily status updates.

Just because we are staying at home to stop corona spreading doesn’t mean that no one from work will see us. It’s 2020 and we’re all about to have a lot of video meetings.

7. Enjoy your work

I know it’s hard. This is a challenging time. 

But we need to accept life as it is and make the best out of it. Here I am quoting the cliche yet appropriate phrase ‘When Life Gives You Lemons, Make Lemonade’.

One benefit of working from home is you are being able to avoid the commute time. If you live in Dhaka like me, you know what I mean! You are saving commute time, as well as the everyday struggle on the road. 

You are saving energy, you are saving time.

Use this opportunity to become more focused, brush up on the skills you need to become a master in your field. 

Home is the New Office!

The COVID-19 pandemic is a unique crisis our generation is facing. We have heard about World Wars, we know more about our Liberation war, but this is a crisis we are all in together.

We need to fight this pandemic and win the war against COVID-19. And, we need to prove our capability, strength, and determination to our future generation.

Use this time to get more connected with your family, spend time learning new skills, stay healthy with exercising, finish some major tasks that you have been planning for years but couldn’t manage time. 

Just don’t blend the working hours and your personal hours. Make yourself part of history by playing your part properly.

We will keep fighting against the virus and survive this pandemic together. 

And when we do, we will become stronger than ever.